“” বৈশাখী সুর “”

মনিরুল ইসলাম

নতুন বছরের নতুন দিনে
নতুন তারার জোছনা আঁক
নতুন যাত্রার নতুনত্বে
ফুল হয়ে ফুটতে থাক।
পাখির মত জাগতে হবে
উর্দ্ধ গগনে ছুটতে হবে
নিত্য স্পৃহার ফুলঝুরিতে
নতুন নতুন স্বপ্ন আঁক।
এই নববর্ষের শুরুতে
ধর্মে ধর্মে বিভেদ মুছে যাক
গরীব দুঃখির দুঃখ গ্লানি
দূর হয়ে যাক, দূর হয়ে যাক।
আছে যত ব্যার্থ স্মৃতি
অতীতের যত ক্ষয় ক্ষতি
সব নিরাশার হোক মুক্তি।
এই নব বর্ষের মধুর দিনে
ওই দেখ রে আকাশ পানে
নীল আকাশে উড়ছে পাখি
তাল গাছেরা দিচ্ছে উঁকি
সূর্যি মামা বলছে যেন
নতুন রোদে খেলতে আয়।
বাজারের দোকান গুলোই
অভিষেক হয় নতুন খাতা
ধার দেনা সব মিটিয়ে দিয়ে
হাল খাতার হয় প্যাকেট আনা।
বাংলা ঘরে বাংলা মায়ের
নিখাদ মায়ার ভালোবাসায়
ভরে উঠুক বঙ্গভূমি,
রঙের তালে ঢাকঢোলে
বেঁধেছে রমণী খোপায় বেণী
সুর তুলেছে বৈশাখী মেলায়।
পান্তা ইলিশ মাছের তরে
এলো আবার বছর ঘুরে
মুছে ফেলো প্রাণ বেদনা
হোক মিলনের নতুন সূচনা।
তবুও একটা দুঃখ রই
পহেলা বৈশাখ নামে অপসংস্কৃতি
দিন দিন তার বাড়ছে গতি।
গত বছর কি কি করেছি
কজনকে দুঃখ দিয়েছি
কাকেই বা করেছি খুশি
পৃথিবীকে কি দিলাম আমি?
আত্মসমীক্ষা করছে না।
বাংলার সন কত?
এটাও খবর রাখছে না ।
ভোগের তালে-ই মাতছে সবাই
ত্যাগের আনন্দ গড়ছে না।