চুপ

শুনতে পাচ্ছো, ওই যে অস্ফুট কান্না, হাহাকার?
অসহায় কারা যেন ডাকছে
কান পেতে শোনো।
চুপ!
ওই যে ওখানে আবছায়া আলোতে
দাঁড়িয়ে কোনো অসহায়তা
তোমাদের দ্বারে, চায় একটু দয়াভিক্ষা;
দাও না কিছু কাটা-ছেঁড়া ঝুলিতে ফেলে।
ওই তো ওই দিকে, রক্তের দাগ
শাসকের রক্তচক্ষু ডরায় নিষ্পাপ শিশুপ্রাণ;
ধেয়ে আসা লাঠি আর বুলেটে
ছিন্নভিন্ন রক্তাক্ত দেহের স্তূপ।
চুপ,
একদম চুপ!
   ——-

ঘুম না এলে

ঘুম না এলে ডাকিস আমায়
দরজা রাখিস খুলে,
এপাশ ওপাশ করিস
যদি বিছানায় শুলে।
ঘুম না এলে ডাকিস আমায়
দূর হবে আঁধার যে রাতি।
ভরিয়ে দেবো আলোয় ঘর,
দিয়ে চাঁদ-তারাদের বাতি।
ঘুম না এলে ডাকিস আমায়
শিয়রে গিয়ে বসবো তোর
মাথায় বুলিয়ে হাত।
গল্প-গানে-সুরের দোলায়
কেটে যাবে সারারাত।
       ——

স্বপ্নের ফেরিওয়ালা

স্বপ্ন চাই…. স্বপ্ন চাই ….
হরেকরকম স্বপ্ন
লাল, নীল, হলুদ, সবুজ।
সদর টপকে ছুটে এলো
ছোট্ট তুলসি।
কত দাম গো তোমার ওই স্বপ্নখানা
ওই যে ….ওই নীলটা ?
ও অনেক দামী, তুই নিতে পারবি নে।
হতাশ তুলসি ফিরে আসে
আঙিনায়, নিজের জায়গায়
খেলতে খেলতে ঘুমে জোড়ে চোখ
ছেঁড়া চাটাইয়ে শুয়ে
দেখা মেলে, সেই
স্বপ্নের ফেরিওয়ালার।
বিনি পয়সায় যায় রেখে
শিয়রে হরেক সব স্বপ্ন।
          ——-
সুরাইয়া খাতুন
উস্থি, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা