জলতরঙ্গ

অরণি বসু

আমাদের টেলিফোন নেই,ফ্রিজ নেই,জলতরঙ্গ আছে।
আমাদের গ্রীষ্মকালীন দার্জিলিং নেই,গাড়িবারান্দা নেই,জলতরঙ্গ আছে।
জলতরঙ্গ বলতে তোমরা কি ভাবছো জানি না,
আমাদের জলতরঙ্গটা মাত্র সাড়ে সাত টাকার,
আমার ছেলের প্রথম জন্মদিনে আমি উপহার দিয়েছিলুম।

তো, এই সাড়ে সাত টাকার জলতরঙ্গ নিয়ে এত কথা কেন?
আসলে আমাদের জলতরঙ্গটা আর ঠিক জলতরঙ্গ নেই,
ওটা এখন আমাদের বাড়ির রাগ কমানোর যন্ত্র।
আমি যখন কোনো কারণে রেগে গিয়ে চেঁচামেচি করি
তখন আমার স্ত্রী আস্তে আস্তে জলতরঙ্গ বাজাতে থাকে।
আমার স্ত্রী যখন রেগে যায়, প্রায়শই যায়,এমনকি খুব তুচ্ছ কারণেও,
তখন আমি জলতরঙ্গ বাজাতে আরম্ভ করি,আর
যেদিন কলে জল থাকে না,ডাল সেদ্ধ হয় না,
বাজারে মাছের দাম অসম্ভব চড়া কিংবা ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং
সেদিন আমরা দুজনেই,যাকে বলে,একেবারে খেপে উঠি,
যখন আমরা সমস্ত দাঁত,নখ আর জিভ বার ক’রে
ছুটে যাই পরস্পরের দিকে,
তখন আমাদের ছেলে জলতরঙ্গটা বাজায়।

আশ্চর্য,জলতরঙ্গ বাজতে থাকলেই আমাদের রাগ পড়ে যেতে থাকে,
রাগ পড়ে যেতে যেতে,সত্যি বলছি
আমরা আবার মুচকি হেসেও ফেলি।

আমাদের টেলিফোন নেই,ফ্রিজ নেই,
আমাদের ফিক্সড ডিপোজিট নেই, ভালোবাসায় উচ্ছ্বাস নেই,
তবু যে জলতরঙ্গটা আছে,সেই জন্যেই,
হ্যা, সেই জন্যেই, জানো, আমরা এখনো টিকে আছি।