দ্বিতীয় আসিফা চাইনা

0
Second Asafa do not want
দ্বিতীয় আসিফা চাইনা –সমীরণ খাতুন
গর্ভবতী স্ত্রী রাবেয়ার দিকে তাকিয়ে হাসান বললো, শোনো রাবেয়া, আমি দোয়া করি আমাদের যেন পুত্রসন্তান হয়।
রাবেয়া: কেন প্রাণপ্রিয় স্বামী এমন কথা? আপনিতো কন্যা সন্তান পছন্দ করতেন। তাকে নিয়ে আপনার কত স্বপ্ন, আপনিতো তার নামটাও ঠিক করে রেখেছেন, হাসিফা। আপনি বলতেন সে যেন কাশ্মীরী মেয়েদের মত সুন্দর পুতুলের মত হয়, রাগ করলে যার ঠোঁট মুখ লাল হয়ে যাবে আর আপনি রাগ ভাঙ্গাতে মা বলে তার কপালে স্নেহের চুম্বন এঁকে দেবেন।
হাসান: হ্যাঁ আমি সবই বলেছিলাম ওকে নিয়ে আরো স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু কাল সারা রাত আমার ঘুম হয়নি। গভীর ভাবে ভেবে দেখলাম মেয়েদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বড় কষ্টকর জীবন। তার উপর বর্তমানে যা পরিস্থিতি আসিফার হত্যাকাণ্ড আমার চোখ খুলে দিয়েছে। আমি চাইনা আমার ঘরে কন্যা সন্তান জন্ম দিয়ে তিলে তিলে যন্ত্রণা পাক। ছোট্ট আট বছরের শিশুটিকে ওরা বাঁচিয়ে রেখেছিলো সাত দিন, শুধুমাত্র বারে বারে ধর্ষণ করার জন্য। তাদের সমর্থনে প্রতিবাদ করা তো দূরের কথা। ঢাল স্বরূপ ব্যবহারিত হল দেশের পতাকা, ধর্ষকদের সমর্থনে। ছিঃ লজ্জাজনক! আমি আর ভাবতে পারছিনা।
রাবেয়া: এর প্রতিবাদ হওয়া দরকার দোষীরা যেন চরমতম, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়। তাহলে এসব বন্ধ হবে।
হাসান: শাস্তি কি করে পাবে? বরং আসিফার আইনজীবীকে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাছাড়া কন্যা পিতৃগৃহ ছেড়ে বিবাহের পর যখন শ্বশুরবাড়ি চলে যায় তখন পিতৃগৃহ ছেড়ে যাওয়ার এক অদম্য যন্ত্রণা। তারপর বিবাহের পর যখন সে মাতৃত্ব লাভ করে সে আর এক যন্ত্রণা। তবুও তাকে কেও বোঝেনা আর বৃদ্ধ বয়সে সে সন্তানের অধীন , বলোতো সে কবে শান্তি পায়? আসিফাদের না জন্মানোই ভালো।
রাবেয়া: কে বললো কন্যাসন্তান শান্তি পায়না? আপনার মতো পিতা, স্বামী, সন্তান যার ঘরে আছে সে অবশ্যই শান্তি পাবে। প্রতিটি ছেলেই আগামী দিনের স্বামী, পিতা, কারোর না কারোর ভাই। তাই আর ঘুম নয়। নিজেকে মানুষ ভাবতে শিখতে হবে। জাগাতে হবে বিবেক। জাতি, বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে জাগতে হবে, সচেতন হতে হবে, জোটবদ্ধ হতে হবে কারণ-
“যার ভয়ে তুমি ভীত সে অন্যায় ভীরু তোমা চেয়ে,
যখনি জাগিবে তুমি তখনি সে পলাইবে ধেয়ে।”
তাই আর দেরি না তরুণ যুবক জেগে ওঠো বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে আর কত দেখবে তোমার স্ত্রী-মা-কন্যা র রক্ত? যদি দ্বিতীয় আসিফা না চাও তাহলে সময় থাকতে গর্জে ওঠো। প্রতিবাদ, প্রতিরোধ গড়ে তোলো। তবে গড়ে উঠবে সুসমাজ!