টিডিএন বাংলা ডেস্ক : শেষ হলো পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সঙ্ঘের দুদিনের রাজ্য সম্মেলন। এবারের সম্মেলনের অভিনবত্ব আগত প্রতিনিধিদের অধিকাংশই নতুন মুখ। রাজ্যের জেলায় জেলায় গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে সাংস্কৃতিক ব্যারিকেড গড়ে আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সম্মেলনের দুদিনে ৪৪জন প্রতিনিধির আলোচনায় উঠে এল সেই সংগ্রামের কথাও। পাশাপাশি সংগঠনকে শক্তিশালী করে নতুন নতুন সৃজন সম্ভার নিয়ে জনমত গড়ে তুলতে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যৌথ কর্মসূচি গ্রহণের ডাক দেওয়া হয়েছে। সম্মেলন থেকে বিদ্যাসাগরের দ্বিশতজন্মবর্ষ পালন, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে এবং লেখক শিল্পীদের ওপর মৌলবাদী আক্রমণের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে তিনটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

সম্মেলনে প্রতিনিধিরা আওয়াজ তুলেছেন ক্ষতবিক্ষত মানব সভ্যতা,আমরা কি চুপ করে বসে থাকতে পারি?বিকল্প সংস্কৃতির সন্ধান সংস্কৃতিকর্মীদেরই করতেই হবে। সময় সমাজের গতিপ্রকৃতি অনুসরণ করে আমাদেরও তুলি কলম নিয়ে আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদের জীবনসংগ্রামে ছবি আঁকতে হবে। আমাদের প্রতিরোধ হবে শৈল্পিক। শুধু ভাবের আদান প্রদান নয় চেতনায় শান দিতে হবে। ঘুমিয়ে থাকা মানুষকে জাগাতে হবে। সংঘবদ্ধ প্রতিরোধে শামিল করতে হবে। সম্মেলন পরিচালকমণ্ডলীতে ছিলেন অনুনয় চট্টোপাধ্যায়। জবাবি ভাষণে বিদায়ী অন্যতম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রজত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সৃষ্টি ও সংগ্রামের যুগলবন্দিতে মানুষের ঐক্যকে শক্তিশালী করতে আমাদেরও ভূমিকা পালন করতে হবে।

সম্মেলন থেকে শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকারকে সভাপতি, রজত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাধারণ সম্পাদক,শ্রীনিবাস ধরকে কোষাধ্যক্ষ ও পথিক রায়কে দপ্তর সম্পাদক করে তিরিশ জনের সম্পাদকমণ্ডলী, ৬৩ জনের কর্মপরিষদ ও ১৮৫ জনের সংসদ গঠিত হয়। সমাপ্তি ঘোষণায় সভাপতি পবিত্র সরকার বলেন রাজ্যে ও দেশে আমরা এক ভয়ঙ্কর সঙ্কটের মধ্য দিয়ে চলেছি। আমাদের মূল্যবোধ আক্রান্ত। মুক্তচিন্তা আক্রান্ত। রাজ্যে প্রতিদিন নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। মানুষের ঐক্য ও ধর্মবোধ ভাঙা হচ্ছে। ফসলের দাম না পেয়ে চাষিদের আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে। চা বাগানে মৃত্যু মিছিল ধামাচাপা দেবার চেষ্টা হচ্ছে। শবরদের অনাহারে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। নির্বাচনে পেশি শক্তির ব্যবহার করছে শাসকদল। শিক্ষায় নৈরাজ্য ও অর্থের বিনিময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভরতি প্রক্রিয়া চলছে। শাসকদল শিক্ষার বিষয়সূচিতেও হস্তক্ষেপ করছে। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্ভট সব কবিতা পাঠ্যসূচিভুক্ত হচ্ছে। অপবিজ্ঞান কুসংস্কার ছড়ানো হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে সমাজের অগ্রণী বাহিনী হিসাবে লেখক শিল্পীদের যোগ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। এবারের সম্মেলন সেই বার্তা দিচ্ছে।