নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা: আমেরিকার সংসদে হিজবধারী মুসলিম নারীর জয় নিয়ে আরেক হিজাবপরা মুসলিম নারী ফেসবুকে নিজের প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। টিডিএন বাংলার পাঠক পাঠিকাদের জন্য সেই লেখা হুবহু তুলে ধরা হলো।


আমি হুসনে আরা বেগম । ১৯৯৭ পরিবারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে আসি । সেই থেকে বসবাস নিউইয়র্কে শহরে ।
আমি একজন বাংলাদেশী মুসলিম হিজাবী নারী হিসাবে গর্ব বোধ করি।মাথা উঁচু করে চলি আলহামদুলিল্লাহ্ একজন মুসলিম হিসাবে । ইসলাম আমার ধর্ম হিজাব আমার অধীকার, আমি বাংলাদেশী এটা আমার গর্ব ।

যে দেশে হিজাব পরিধান করার জন্য এক সময় আমি নিজে
বিভিন্ন জায়গায় চাকরী পাইনি এবং হিজাব না ছাড়ার কারনে আমি চাকরী হারীয়েছিলাম ১৯৯৯ সালে । শুধু আমি একা নই ১০-১২ মুসলিম কর্মচারীকে ওই কম্পানি একসাথে চাকরী থেকে বরখাস্ত করে দেয় ।
কাজের জায়গায় আমরা নামাজ পড়তাম , সেটা বন্ধ করে দেয়। ফেলে দেয় আমাদের জায়নামাজ। পরবর্তী সময়ে আমরা এটা নিয়ে আমরা কয়েকজন মিলে কেইস ফাইল করি । কেইস হতে বাঁচার জন্য মিথ্যা কেইস দেয় মালিক পক্ষ্য আমাদের বিরুদ্ধে । আলহামদুলিলাহ আমরা সেই কেইস জিতে যাই এবং কম্পানির মালিকে জেল জরিমানা হয় । আমরা সবাই Equal Opportunity সরকারী সংস্থা থেকে এয়াড পাই ।
অন্যায়ের সাথে কোন দিন আমি আপষ করিনি ইনশাআল্লাহ কোন দিন করব না ।

সহজ ছিল না সেই জীবন যুদ্ধ । পাঁচজন ছিল আমাদের পরিবারের সদস্য । আমার একার আয় দিয়ে সংসার চলত। ছোট ২ ভাই বোন আর বাবা মাকে সে সময় যে কঠিন সময় পার করেছি সে একমাত্র আল্লাহ আর জানত আমার পরিবার ।আলহামদুলিলাহ তবুও একচুল পরিমান বিশ্বাস হাড়ায়নি। ছেরে দেইনি মাথার হিজাব, কারন রিজিকের মালিক আল্লাহ ।
যতবার বিপদ এসেছে আল্লাহ অলৌকিক ভাবে কিভাবে যেন পার করে নিয়েছে । আলহামদুলিলাহ আজ হিজাব ও ইসলামিক পোশাক পড়ে সরকারী চাকরী করি সন্মানের সাথে ।সন্মান দেবার এবং নেবার মালিক একমাত্র আল্লাহ । অন্ধের মত বিশ্বাস করেছি এবং এখনও করি ।

আমার জীবনের কথা লিখে শেষ হবে না । আজ এই পর্যন্তই ইতি টানলাম কোন এক সময় আবার লিখব ইনশাআল্লাহ ।

এবার আসি আমেরিকান ভোটের ব্যবপারে । এই ইলেকশন পাল্টে দিয়েছে আমিরাকান ইতিহাসকে । আশা করি সামনে আলোর ভোর আসবে । বিদায় নিবে অন্ধকার ইনশাআল্লাহ ।

আমিই মার্কিন কংগ্রেসে প্রথম হিজাবধারী মুসলিম নারী’
বলেন সোমালি বংশোদ্ভূত ৩৭ বছরের ইলহান ওমর এবং ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ৪২ বছরের রাশিদা তালেব – এরা দুজনেই ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী ছিলেন। এরা দুজনেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসী-বিরোধী এবং মুসলিম-বিরোধী বাগাড়ম্বরের প্রকাশ্য এবং ঘোরতর সমালচক

মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জিতে এরা ইতিহাস তৈরি করেছেন। তারাই প্রথম দুই মুসলিম নারী যারা মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য হচ্ছেন। রাশিদা তালেব জিতেছেন মিশিগান রাজ্য থেকে। ইলহান ওমর জিতেছেন মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের একটি আসন থেকে।

যুক্তরাষ্ট্রে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক মুসলিম প্রার্থী প্রতিযোগিতা করেছেন। একটি মুসলিম সংগঠনের দেওয়া হিসাবে, মুসলিম প্রার্থীর সংখ্যা ছিল, একশর কাছাকাছি।

‘স্বপ্নের সীমা নেই’
জেতার পর তার প্রথম ভাষণে, ইলহান ওমর বলেন,” মিনেসোটায় আমরা অভিবাসীদের শুধু সাদরে বরণই করিনা, আমারা তাদের ওয়াশিংটনে পাঠাই। আজ রাতে অনেকগুলো ‘প্রথম’ বিশেষণের অধিকারী হিসাবে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি – প্রথম অশ্বেতাঙ্গ হিসাবে আমি এই রাজ্যকে কংগ্রেসে প্রতিনিধিত্ব করতে চলেছি, হিজাব পরিহিত নারী হিসাবে কংগ্রেস যাচ্ছি, আমিই প্রথম শরণার্থী যে কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়েছি, এবং প্রথম একজন মুসলিম নারী হিসাবে কংগ্রেসে যাচ্ছি।”

হিজাব-পরিহিত ইলহান ওমর ১৪ বছর বয়সে বয়সে পরিবারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনে আগে কেনিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে চার বছর কাটিয়েছিলেন।

স্থানীয় একটি গির্জার স্পন্সরশীপে ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তার পরিবার মিনিয়াপোলিসে আসার সুযোগ পান। বিভিন্ন সূত্রের খবরে জানা গেছে, ১৪ বছর বয়সে যখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে, ইলহান ওমর সামান্যই ইংরেজি জানতেন এবং মাত্র তিন মাসের ভেতর ভাষা রপ্ত করে ফেলেন। তখন থেকেই তার দাদার অনুবাদক হিসাবে সাথে ডেমোক্র্যাটদের বিভিন্ন সভায় যেতে শুরু করেন।

তিনি সার্বজনীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কট্টর সমর্থক। একইসাথে, ঘণ্টায় কমপক্ষে ১৫ ডলার মজুরীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন।
এর আগে ২০১৬ সালে মিনেসোটা রাজ্য সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন।

সেই নির্বাচনে জেতার পর তিনি বলেছিলেন, “এ বিজয় শরণার্থী শিবিরে ৮-বছর বয়সী এক শিশুর বিজয়। এই বিজয় একজন তরুণীর যাকে জোর করে অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হয়। এই বিজয় তাদের যাদের বলা হয় যে তাদের স্বপ্ন দেখার সীমা রয়েছে।”

‘আর দূরে দাঁড়িয়ে থাকা নয়’
ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রাশিদা তালেব মিমিগান অঙ্গরাজ্যের একটি আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন। তার জন্ম ঐ রাজ্যেরই রাজধানী শহর ডেট্রয়েটের দরিদ্র, খেটে খাওয়া এক অভিবাসী ফিলিস্তিনি পরিবারে।

রাশিদা তালেব: “আমি আমার দুই ছেলের জন্য নির্বাচন করছি যাদের মধ্যে তাদের মুসলিম পরিচিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।”

৪২ বছরের তালেব ১৪ ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে বড়। ২০০৮ সালে তিনি প্রথম মুসলিম নারী হিসাবে মিশিগান রাজ্য পরিষদে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

তিনি জানান, মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে আসা নিষিদ্ধ করা সহ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কিছু রীতির বিরোধিতা করার জন্যই তিনি কংগ্রেস নির্বাচনের দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
“ইতিহাস রচনার জন্য আমি নির্বাচন করিনি,” এবিসি টিভিকে বলেন রাশিদা তালেব। “আমি অবিচারের জন্য নির্বাচন করেছি। আমাদের ছেলেদের জন্য করেছি যাদের মনে তাদের মুসলিম পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তারা বুঝতে পারছে না তাদের অবস্থান কোথায়। আমি কখনই দূরে দাঁড়িয়ে দেখার মানুষ নই।”

ডেট্রয়েটের কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে রাশিদা নিজেকে শ্রমিক শ্রেণীর অধিকারের প্রতিভূ হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময় রিপাবলিকানদের একটি নির্বাচনী সভায় ঢুকে তালেব মুখের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা শুরু করনে। তাকে তখন জোর করে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়।

বৈষম্য পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক গবেষণায় দেখা গেছে – যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮ শতাংশ মুসলিম অভিযোগ করেছে গত ১২ মাসে তারা কোনো না কোনোভাবে বৈষম্যের শিকার হয়েছে।
৭৫ শতাংশ মুসলিম মনে করে, তাদের বিরুদ্ধে “মারাত্মক” বৈষম্য করা হচ্ছে। প্রায় একই সংখ্যক মুসলিম মনে করে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মুসলিম বিদ্বেষী।

২০১৭ সালের এক হিসাব মতে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমের সংখ্যা সাড়ে ৩৩ লাখ। এই সংখ্যা এক দশক আগের তুলনায় ১০ লাখ বেড়েছে। ইনশাআল্লাহ সামনে আরো বাড়বে । সত্যের পক্ষ্যে বিজয় আসবেই ।