টিডিএন বাংলা ডেস্ক: ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সারা ভারতে লকডাউন। এবার প্রতিবেশী নেপালেও থাবা বসিয়েছে ‘কভিড ১৯’। সেখানে দ্বিতীয় মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্রই দেশ জুড়ে জরুরি অবস্থার ঘোষণা দিয়েছে সে দেশের সরকার। ২৫ মার্চ এর সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়ে আগামী ৩১ মার্চ সকাল ৬টা পর্যন্ত লকডাউন থাকবে গোটা নেপালে। এসময় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় বের হতে নিষেধ করা হয়েছে।

নেপালি টাইমের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার রাতে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর নেপালের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রী ঈশ্বর পোখরেল এ লকডাউনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ গয়ালি বলেন, লকডাউন চললেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান খোলা থাকবে, যেন মানুষ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার সুযোগ পায়। তবে দোকান খোলা রাখার জন্য কোনো সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে না। কেননা, তাতে করে দোকানে বরং ভিড় তৈরি হতে পারে।

সোমবার বিকেলে নেপালের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ফ্রান্স থেকে কাতার হয়ে আসা ১৯ বছর বয়সী এক নেপালি শিক্ষার্থী কোভিড-১৯ পরীক্ষায় পজিটিভ হয়েছেন। এর আগে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি শ্বাসকষ্ট ও গলায় সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন চীন ফেরত একজন শিক্ষার্থী। দিন দশেক পর তার শরীরে করোনার উপস্থিতি ধরা পড়ে।

করোনার প্রথম রোগী শনাক্তের পরই নেপালের সব সিনেমা হল, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, স্টেডিয়াম, জাদুঘর, সুইমিংপুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি দেশটির রাজধানী কাঠমান্ডুতে সেনাবাহিনীর সদর দফতরে মডেল কোয়ারেন্টিন জোন তৈরি করা হয়। প্রথম রোগী সুস্থ হলেও সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে এবার পুরোপুরি লকডাউনে চলে গেল দেশটি। এর ফলে অফিস-আদালত সব বন্ধ থাকবে। চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অভ্যন্তরীণ সব ধরনের যান চলাচলও বন্ধ থাকবে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ সব ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।