টিডিএন বাংলা ডেস্ক: বেশ কিছুদিন ধরেই একের পর বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় স্থান বা বিভিন্ন বাজার, শহর গুলোতে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেই চলেছে। এবার ফ্রান্সের লিয়ো শহরের ফুটপাতে প‍্যাকেট বোমা বিস্ফোরণের দূর্ঘটনা ঘটলো, দূর্ঘটনায় কমপক্ষে আহত হয়েছে ১৩ জন। তবে এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনও খবর নেই। সন্দেহভাজনের খোঁজে নেমেছে ফ্রান্সের পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান মিলিয়ে সন্দেহভাজন দুষ্কৃতীর চেহারা অনুমান করে খোঁজ চলছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ১৩ জনের মধ্যে ১১ জনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

ফ্রান্সের জঙ্গিদমন দপ্তরের তরফে রেমি হেইজৎ জানিয়েছেন, দেশে জঙ্গি দমন অপারেশেন নিয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল শনিবার দুপুরেই। আর এইদিনই লিয়োর ফুটপাথে ঘটে গেল এমন এক নাশকতা৷

এব‍্যপারে লিয়োর মেয়র গেরার্ড কলোম্ব জানান, এমন একটা ঘটনা ঘটতে পারে, তার কোনওরকম আভাস ছিল না। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরঁ ঘটনার নিন্দা করেছেন। তাঁর কথায়, “লিয়োর ফুটপাথে যে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার খবর পেয়ে আহত হয়েছি।

রবিবার ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নির্বাচন। তার আগে এই ধরনের ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। আহতদের পরিবারের পাশে আছি।”

প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত ছেলেটির বয়স তিরিশের কোঠায়। ঘটনার সময় ছেলেটি একটা সাইকেলে এসেছিল। রাস্তার একপাশে একটি বেকারির সামনে স্ক্রু, নাটবল্টু-সহ একটি ব্যাগ রাখে৷ তখনও কোনও সংশয় হয়নি৷ সিসিটিভি ফুটেজে সবটাই ধরা পড়েছে বলে পুলিশের দাবি।

তদন্তে জানা গিয়েছে, শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ছেলেটি লিয়োর একটি বেকারির সামনে একটি প্যাকেট রেখে যায় ওই তিরিশ বছরের সন্দেহভাজন ব্যক্তি। সেই প্যাকেটে পেরেক, নাটবল্টু উদ্ধার করা হয়েছে। বসন্তের বিকেলে লিয়োর ফুটপাথে ভালই ভিড় ছিল। তার মধ্যে হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে লিয়ঁর আশপাশের দোকান। ইভা নামে এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, “হঠাৎ বিস্ফোরণ হবে বুঝতে পারিনি। প্রথমে ভেবেছিলাম গাড়ি দুর্ঘটনা।” এখনও অবধি কোনও জঙ্গি সংগঠন এই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। কে বা কারা এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।