টিডিএন বাংলা ডেস্ক: অনেকটা যেন মুম্বই হামলার মতো! এক জায়গা থেকে বিস্ফোরণের খবর আসতেই কেঁপে উঠছে আর এক জায়গা। ২৬/১১-র স্মৃতি উস্কে শ্রীলঙ্কায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণ। রবিবার সকালে রাজধানী কলম্বোর একটি বিলাসবহুল হোটেল ও তিনটি গির্জা ধারাবাহিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২৪ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহত সাড়ে চারশোরও বেশি। নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারার আশঙ্কা। কারণ আহতেদর মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এখনও পর্যন্ত কেউ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। গির্জায় ইস্টারের প্রার্থণার সময় এই হামলা চলে।

রবিবার সকাল পৌনে নটা নাগাদ  ধারাবাহিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে রাজধানী কলম্বো। ইস্টারের প্রার্থনার সময় তিনটি গির্জায় বিস্ফোরণ ঘটে। একই সঙ্গে তিনটি হোটেলেও পর পর বিস্ফোরণ ঘটে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। ঘিরে ফেলে এলাকা। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কলম্বো ন্যাশনাল হাসপাতালের তরফে একটি বিবৃতিতে বলা হয়, ৮০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে গুরুতর জখম অবস্থায়, আহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে কলম্বো পুলিশ।

কলম্বোর কোচ্চিকাড়ের অ্যান্টলি গির্জা, কাতুয়াপিতিয়ার সেন্ট সিবেস্টিয়ান গির্জা-সহ একাধিক জায়গায় বিস্ফোরণের ভয়াবহ শব্দ শোনা গিয়েছে। সাংরি লা, সিনামন গ্র্যান্ডের মতো বিলাসবহুল হোটেলেও চলে হামলা। হোটেলগুলিতে অসংখ্য বিদেশি পর্যটক ছিলেন বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। মুম্বইয়ের মতো এক্ষেত্রেও বিদেশি পর্যটকরাই আক্রমণের লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই বিস্ফোরণের বিভিন্ন ছবি উঠে এসেছে টুইটার এবং সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। তবে কোন জঙ্গি গোষ্ঠী এই বিস্ফোরণের পিছনে রয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়৷

শ্রীলঙ্কা মূলত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদেরই দেশ। দেশে খ্রিস্টধর্মে বিশ্বাসী ক্যাথলিকদের সংখ্যা ছয় শতাংশ মাত্র। ইস্টারের প্রার্থনার কারণেই গির্জায় বেশ ভিড়ই ছিল, তাই এই নির্দিষ্ট সময়টাকেই জঙ্গিরা বেছে নিয়েছে বলে মত কলম্বো পুলিশের।