টিডিএন বাংলা ডেস্ক: বছরের শেষদিকে এসে হঠাৎ করেই জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এ ঘোষণা আকস্মিক হলেও অপ্রত্যাশিত ছিল না।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারের সময়ই ট্রাম্প বলেছিলেন যে, তিনি জয়ী হলে জেরুজালেমকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেবেন।

জেরুজালেম মুসলিমদের কাছে বায়তুল মোকাদ্দাস এবং আল কুদস নামেও পরিচিত। মুসলমানদের পাশাপাশি খ্রিস্টান ও ইহুদি ধর্মের মানুষের কাছেও পবিত্র স্থান জেরুজালেম। এ স্থান নিয়ে ফিলিসি্তন-ইসরাইল দ্বন্দ্ব চলছে যুগের পর যুগ। জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসছে ফিলিসি্তন ও ইসরাইল। ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধে পশ্চিম জেরুজালেম ইসরাইলের দখলে গেলেও আল-আকসা মসজিদসহ অনেক ধর্মীয় স্থাপনা সংবলিত পূর্ব জেরুজালেম জর্ডানের দখলে থাকে। ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধে পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরাইল। এরপর থেকে মধ্যপ্রাচ্য সংকট চলছে, যা মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রও মধ্যস্ততাকারীর ভূমিকা চালিয়ে আসছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ ভূমিকা ছিল নামকাওয়াসে্ত এবং প্রকারান্তরে ইসরাইলের পক্ষে।

যুক্তরাষ্ট্রের ৭০ বছরের রীতি ভেঙে ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিব থেকে যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমে সরানোর ঘোষণাও দেন তিনি। তবে তার ঘোষণা মেনে নেয়নি মুসলিম বিশ্ব। পুরো ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ ট্রাম্পের ঘোষণার সরাসরি বিপরীতে অবস্থান নেয়। অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে মুসলিম বিশ্ব। ফিলিস্তিনে ডাক দেয়া হয় গণঅভু্যত্থানের। এতে এ পর্যন্ত অন্তত ১২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বস্তুত ট্রাম্পের ঘোষণার পর থেকেই স্বাধীন ফিলিসি্তনের দাবি আরও জোরালো হয়েছে, সমর্থন মিলেছে বিপুলসংখ্যক রাষ্ট্রের।

ট্রাম্পের ঘোষণা বাতিলের জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব তোলে সংস্থার অস্থায়ী সদস্য মিসর। ১৮ ডিসেম্বর এ প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দেয়। তবে পরিষদের বাকি ১৪ সদস্যই প্রস্তাবের পক্ষে ছিল।

পরে প্রায় একই ধরনের একটি প্রস্তাব তোলা হয় সাধারণ পরিষদে। প্রস্তাবটির পাস হওয়া ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র নজিরবিহীন হুমকি-ধমকি দিতে শুরু করে। তবে তা উপেক্ষা করেই ২১ ডিসেম্বর বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ট্রাম্পের জেরুজালেম ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেছে পরিষদের সদস্যরা।

ট্রাম্পের জেরুজালেম ঘোষণা প্রত্যাখ্যানের পক্ষে ১২৮টি দেশ ভোট দেয়। বিপক্ষে পড়ে মাত্র ৯ ভোট। ৩৫টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। প্রস্তাবে ট্রাম্পের ঘোষণা অকার্যকর বলে মন্তব্য করা হয়। এটি ছিল ১৯৩ সদস্যবিশষ্টি সাধারণ পরিষদের বিরল জরুরি অধিবেশন। সাধারণ পরিষদে অধিবেশন শুরুর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়া দেশগুলোকে আর্থিক সাহায্য বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সাধারণ পরিষদের ভোটের আগের দিন হোয়াইট হাউসে তিনি বলেন, ‘তারা লাখ লাখ, কোটি কোটি ডলার সাহায্য নিচ্ছে আর আমাদেরই বিরুদ্ধে ভোট দিতে যাচ্ছে। বেশ, কারা এ ভোট দেয় আমরা দেখছি। তারা আমাদের বিরুদ্ধে ভোট দিক। আমরাও প্রচুর অর্থ বাঁচাব। আমরা পরোয়া করি না।’

জরুরি অধিবেশনেও জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি ফের হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আজকের দিনটির কথা মনে রাখবে যুক্তরাষ্ট্র।’ ট্রাম্পের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এখন পর্যন্ত শুধু গুয়াতেমালা জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিপরীতে তুরস্ক, ইরান ও মালয়েশিয়া ফিলিসি্তনে তাদের দূতাবাস পূর্ব জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।