ছবি - ইন্টারনেট

টিডিএন বাংলা ডেস্ক:  মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত জাতিগত নিধনযজ্ঞের দায়ে দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে অস্ট্রেলিয়া। এতোদিন নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আসলেও মঙ্গলবার তারা নিজেরাই সে দেশের শীর্ষ পাঁচ সেনা-কর্মকর্তার নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপ নিলো অস্ট্রেলিয়া। এই সিদ্ধান্তের কারণে এসব সামরিক কর্মকর্তার অস্ট্রেলিয়ায় থাকা সম্পদ জব্দ করা হবে। অস্ট্রেলীয় নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তারা কোনও লেনদেন করতে পারবে না। এমনকি অস্ট্রেলিয়াতে ঢুকতেও পারবে না তারা।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মায়ানমারের সেনাবাহিনী। সন্ত্রাসবিরোধী শুদ্ধি অভিযানের নামে শুরু হয় নিধনযজ্ঞ। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হতে থাকে ধারাবাহিকভাবে। এমন বাস্তবতায় নিধনযজ্ঞের বলি হয়ে রাখাইন ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। আগে থেকে উপস্থিত রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় দশ লাখে। এসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশের বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে বসবাস করছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, মায়ানমারের সামরিক বাহিনীর মধ্যে ‘গণহত্যার অভিপ্রায়’ ছিল। এছাড়া দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান ও এই পাঁচ জেনারেলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনে মামলার সুপারিশও করা হয় ওই প্রতিবেদনে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিয়ানমারের কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা ও সেনা বিগ্রেডের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এবার নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হলো অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরিজ পেনি জানান, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সামরিক কর্মকর্তারা হলেন, অং কিয়াউ জাউ, মং মং সোয়ে, অং অং, থান ঊ এবং খিন মং সোয়ে। এদের মধ্যে একজন লে. জেনারেলও রয়েছেন। তিনিই রাখাইনের সেনা অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন। এসব কর্মকর্তার আওতায় বিভিন্ন সেনা ইউনিট রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। ফলে তারাও একই অভিযোগে অভিযুক্ত।

অস্ট্রেলিয়া আগে থেকেই মায়ানমার সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। আর মঙ্গলবার পর্যন্ত তারা দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির বিপক্ষে ছিল। এই নিষেধাজ্ঞা জারির কারণে এখন থেকে অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের সঙ্গে কোনও লেনদেনও করতে পারবে না এই সেনা কর্মকর্তারা। কোনও অস্ট্রেলীয় নাগরিক তাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করলে তাকে ১২ লাখ ডলার জরিমানা ও ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে।