টিডিএন বাংলা ডেস্ক: দীর্ঘ ২ মাস ধরে ভয়াবহ দাবানলের গ্রাসে অস্ট্রেলিয়া। দাবানলের সেই আগুন এখনও অব্যাহত। এখনও পর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দাবানলে সব থেকে বেশি বন্যপ্রাণীদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৫০ কোটিরও বেশি বন্য প্রাণীর। আর এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। এক আন্তর্জাতিক সংস্থা গত বৃহস্পতিবারই এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিদদের দেওয়া তথ্য বলছে, সেপ্টেম্বর থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫০ কোটি স্তন্যপায়ী, পাখি ও সরীসৃপের মৃত্যু হয়েছে দাবানলে ঝলসে গিয়ে। যার সংখ্যা আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদরা।

পশ্চিম সিডনির তাপমাত্রা পৌঁছয় ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এখনও পর্যন্ত নিউ সাউথ ওয়েলস এবং ভিক্টোরিয়া জুড়ে, ১২০০ ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দাবানল কবলিত নিউ সাউথ ওয়েলস আর ভিক্টোরিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সরকার। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় পর্যটনস্থল ক্যাঙারু দ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকা পুড়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। দাবানলের কারণে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রায় ৩০ শতাংশ কোয়ালা প্রাণ হারিয়েছে বলে ধারণা. পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব সিডনির পরিবেশবিদরা জানান, দাবানলে সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ কোটি স্তন্যপায়ী, পাখি ও সরীসৃপ মারা গেছে। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দাবানলে পুড়ে ছাই হয়েছে গেছে হাজার হাজার কোয়ালা। বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা এ প্রাণীটির বেশিরভাগই বাস করতো অস্ট্রেলিয়ার বনাঞ্চলে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের মধ্য-দক্ষিণ উপকূলবর্তী অঞ্চলে বসবাসরত প্রায় আট হাজার কোয়ালা মারা গেছে এ দাবানলে, যা এ অঞ্চলের কোয়ালা জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ। কাকাতুয়াসহ অন্য অনেক পাখি মরে গাছের নিচে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলবর্তী অঞ্চলে দাবানলের লেলিহান শিখা থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে ক্যাঙ্গারুরা। অত্যন্ত গরম ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এ দাবানলে পুড়ে মরে গেছে অসংখ্য প্রাণী।

সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার দাবানলে প্রাণ হারানো অসংখ্য প্রাণির ঝলসানো ছবি। আগুনের লেলিহান থেকে বাঁচার জন্য ক্যাঙারুর দৌড়, জলের আশায় প্রাণিদের হাহাকার ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। মারা গিয়েছে অসংখ্য কাকাতুয়া। পাখিদেপ দেহ গাছের নীচে পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। বিধ্বংসী দাবানল থেকে বাঁচতে যেসব কৃষক আগুন থেকে বাঁচার জন্য অন্য স্থানে আশ্রয় নিয়েছিলেন, পরে বাড়ি ফিরে তাঁরা দেখেন পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে ফসলি জমি এবং গৃহপালিত প্রাণীরা।

গতবছর সেপ্টেম্বর থেকে অস্ট্রেলিয়ার একাধিক জায়গায় দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় আগুন নেভাতে সমস্যায় পড়ে দমকল। আশি বছরে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা বাড়ে ক্যানবেরায়। ভিক্টোরিয়া অঞ্চলে স্টেট অফ ডিজাস্টার ঘোষণা করা হয়েছে। জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে নিউ সাউথ ওয়েলসে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার দাবানলে প্রাণ হারানো অসংখ্য প্রাণী ঝলসানো ছবি। এলাকার মানুষকে স্থানান্তর করতেও উদ্যোগ নিয়েছে সেনা। দাবানলের জেরে পরিবেশের বিপুল ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। বিপুল ধোঁয়ায় বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে দিনের বেলাতেও অন্ধকার নেমে আসে।

স্বেচ্ছাসেবী প্রাণী উদ্ধারকর্মী ট্র্যাসি বার্গেস বলেন, প্রত্যাশার চেয়ে খুব কম প্রাণীকে আহতাবস্থায় চিকিৎসার জন্য আনা হচ্ছে, যা বেশ উদ্বেগজনক। আমাদের দুশ্চিন্তার কারণ এটাই যে, হয়তো তারা মরেই গেছে, তাই তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য আনা হচ্ছে না।

ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার দাবানল। গত বছর সবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল জলবায়ু সঙ্কট। প্রাণীদের মৃত্যুর মিছিলে এ সঙ্কট আরও তীব্র রূপ ধারণ করার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে মারা যাচ্ছে বন্যপ্রাণীরা। অনেক প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে গেছে, আবার অনেক প্রাণী বিলুপ্তের পথে। আমাজন বনে দাবানলে হারানো প্রাণীদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই অস্ট্রেলিয়ার দাবানলে হারিয়ে গেলো প্রায় ৫০ কোটি প্রাণী। নিঃসন্দেহে এ সংখ্যা আরও বাড়বে এবং পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে গোটা বিশ্ব খুব দ্রুত আরও জটিল পরিস্থিতিতে পড়তে যাচ্ছে।