টিডিএন বাংলা, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আমেরিকার বারোজনেরও বেশি আইনজীবী, সেনেটর মার্ক রুবিও ইউএস হাউজ রিপ্রেজেন্টিটিভ ক্রিস স্মিথ ২০১৯ বর্ষের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য জেলবন্দী উইঘুর স্কলার এবং ব্লগার ইলহাম থটি’র নাম প্রস্তাব দেন।

অর্থনীতির অধ্যাপক ইলহাম থটি চিনের সিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর এথনিক সংখ্যালঘু মুসলিমদের উপর ধৰ্মীয় ও সাংস্কৃতিকভাবে রাষ্ট্রীয় অত্যাচার ও নিপীড়ন নিয়ে বার বার সরব হয়েছিলেন।
এজন্য, ২০১৪ সালে সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদ ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয় ও তাঁকে যাবজ্জীবন
কারাদন্ড দেওয়া হয়। থটি একটি ওয়েবসাইট চালাচ্ছিলেন উইঘুরবিজ ডট নেট নামের। চীন সরকার সেটিও বন্ধ করে দেয়।

গত মঙ্গলবার, একটি চিঠি মারফত ওসলো নোবেল কমিটির কাছে সেনেটর মার্ক রুবিও এবং কংগ্রেসের চীন বিষয়ক কার্যনির্বাহী কমিশনের প্রধান ক্রিস স্মিথ সহ ১৩ জন আইনজীবি থটিকে এই সম্মান জনক পুরস্কার প্রদানের জন্য আহব্বান জানান। চিঠিতে বলা হয়, স্বায়ত্তশাসিত সিনজিয়াং উইঘুর প্রদেশে এই চলমান দমন-পীড়নমুলক পরিস্থিতির মধ্যে ” থটি-র মতো মানুষর খুবি প্রয়োজন।”

আইনজীবিদের এই দলটি, ‘রি-এডুকেশন ক্যাম্প’ গুলিতে ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে যে প্রায় ১১ লক্ষ উইঘুর এথনিক মুসলিমদের আঁটক করে রাখা হয়েছে, সে প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তাঁদের চিঠিতে।

এদিকে চীনের একটি দৈনিক পত্রিকা তাঁদের সম্পাদকীয় কলমে দাবি করে যে, নোবেল পুরস্কারকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমেরিকার এই আইনজীবীরা চীনের বেইজিং-এর মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থটি’কে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে চীনের স্বশাসিত সিংজিয়াং উইঘুর প্রদেশের শান্তি ও স্থায়িত্ব নষ্ট করতে চাইছে। এমনকি, এধরনের পদক্ষেপ নোবেল পুরস্কার প্রদানের যে মূল দর্শন; সারা বিশ্বে শান্তির বাতাবরণ তৈরি করা, তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

উল্লেখ্য, ১০ লাখের ও বেশি উইঘুর মুসলিমদেরকে গোপন বন্দিখানায় আটকে রেখে তাদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে চীনের কম্যুনিস্ট
সরকার। এনিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্রভাবে নিন্দা করা হয় চীন সরকারকে। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং জাতিসংঘ চীনা সরকারকে ভর্ৎসনা করে বিবৃতিও পেশ করে একাধিকবার। এতদসত্ত্বেও কোনো হেলদোল নেই চীনের।