টিডিএন বাংলা ডেস্ক: মহানবী( সা:) -এর প্রশংসায় কবিতা লিখেছিলেন চিনা সম্রাট হংবু। তার আসল নাম ছিল ঝু ইউয়ান জাঙ্গ। ২১ অক্টোবর ১৩২৮ তার জন্ম, মৃত্যু হয় ২৪ জুন ১৩৯৮। মধ্যযুগে মিং সম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট হংবু ১৩৬৮ থেকে ১৩৯৮ সাল পর্যন্ত চীন শাসন করেন। অর্থাৎ চিনে মিং রাজবংশের প্রথম ও প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট ছিলেন তিনি। চিনের জাতীয় ভাষা মান্দারিন হরফে তিনি কবিতাটি লিখেছিলেন। মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ(স:)-এর প্রশংসা ও গুনগান করা।’বাইযিযান’নামে পরিচিত ১০০ শব্দে লেখা এই স্তবগাথা থেকে প্রমাণ হয়, সেই সময় চীনেও ইসলামের প্রচার-প্রসার হয়েছিল।
যার প্রভাব পড়েছিল মিং সম্রাটের ওপর। ইতিহাসের বিবরণ থেকে জানা যায়, সম্রাট হংবু-র আমলেই চিনে ইসলামের পথচলা শুরু হয়েছিল। স্বভাবতই এটা বলাবাহুল্য যে, আজ থেকে প্রায় ৬৫০ বছরেরও বেশি আগে চিনে ইসলামের আগমন হয়েছিল। সম্রাট হংবুর রাজত্বকালেই চিনের বিভিন্ন অঞ্চলে মসজিদ নির্মিত হয়।
কবিতাটি পাঠ করলে স্পষ্ট বোঝা যায়, মিং সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট হংবু ইসলাম ধর্ম এবং শেষনবী মুহাম্মদ সা. কে যথেষ্ট শ্রদ্ধা-সম্মান করতেন। এমনও শোনা যায় যে, রাজ্যপাটের শেষ দিকে অর্থাৎ মৃত্যুর আগে না কি ইসলাম গ্রহণও করেছিলেন তিনি। তবে এই দাবির পক্ষে কোনও প্রামাণ্য দলিল পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, সম্রাট হংবু-র লেখা ইসলামি কবিতাটির মূল পাণ্ডুলিপি আজও সযত্নে রক্ষিত আছে। এ ছাড়াও চিনের নানজিং প্রদেশের বিভিন্ন মসজিদের দেওয়ালে কবিতাটি ক্যালেন্ডারের মতো বড় করে টাঙানো আছে। সেই ঐতিহাসিক কবিতাটির বাংলা তরজমা হল, ‘পৃথিবী সৃষ্টির সূচনা থেকে খোদা নিযুক্ত করে রেখেছেন তাঁর বাণীর প্রচারকারী। সুদূর পশ্চিমে তাঁর জন্ম, গ্রহণ করে পবিত্র কুরআন, যা তিরিশ খন্ডে বিভক্ত। সকল সৃষ্টিকে পথ দেখতে,সকল শাসকের অধিপতি পবিত্রজনের নেতা। আকাশ তথেকে সাহায্য নিয়ে রক্ষা করেন মানবজাতির, দৈনিক পাঁচবার প্রার্থনায় নীরবে কামনা করেন শান্তি। এক আল্লাহয় আবোধ্য
তাঁর হৃদয়,গরিবের দুর্দশাকে করে দূর,মনে দেন শান্তি ও শক্তি। পাপীর অদৃষ্টকে দেখে, দুরাত্মা থেকে করেন মুক্তি। জগতের জন্য ক্ষমা নিয়ে চলেছেন সুদূর অতীত থেকে, মন্দকে দূর করার মহাসড়কে।তাঁর ধর্ম পরিশুদ্ধ ও শাশ্বত সত্য,তাই মুহাম্মদ মহান ও পবিত্র’।