টিডিএন বাংলা ডেস্ক: নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে দুপক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। পুলিশ বিএনপির কার্যালয়ের সামনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সমর্থকদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে এবং পুলিশের গাড়ীসহ একাধিক গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসময় বিএনপির মনোনয়নপত্র বিক্রির কার্যকম বন্ধ হয়ে যায় এবং কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন বলে খবর।

সকাল থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করার জন্য নয়াপল্টনে কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় অবস্থান নেন। এতে রাস্তার দুই পাশেরই যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছিল। পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীদের রাস্তা ছেড়ে দিতে বললে এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বাগবিতন্ডার এক পর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ বিএনপির কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়লে বিপরীত দিক থেকে ইটপাটকেল ছোড়া শুরু হয় এবং সংঘর্ষ ব্যাপক রূপ লাভ করে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে তারা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন।হেলমেট পরিহিত কয়েকজনকে দুটি গাড়িতে আগুন দিতে দেখা যায়।সাজোয়া যানসহ পুলিশ কিছুটা দূরত্বে অবস্থান করলেও এ সময় তাদের অ্যাকশনে যেতে দেখা যায়নি।

বেলা ১টা ৩০ মিনিটে এ প্রতিবেদন লেখার সময় দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলছিল। এ সময় অনেক নেতাকর্মী দৌড়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে গিয়ে অবস্থান নেন। তবে রাস্তা অনেকটা ফাঁকা হয়ে গেছে। পুলিশ চারদিকে অবস্থান নিয়ে আছে।

কার্যালয়ে অবস্থান করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সময় মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারাও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছিলেন।

জড়ো হওয়া নেতাকর্মীদের লাঠিচার্জ করে এরই মধ্যে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়েছে। কার্যালয়ের ভেতর থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে তিনটি গেট।

প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন আসনে প্রার্থী দিতে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করছে বিএনপি। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তৃতীয় দিনের মতো চলছে মনোনয়ন ফরম বিক্রি।

আজ সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্থাপিত ১০টি বুথে একযোগে এ মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

সকাল থেকেই নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে পুলিশের উপস্থিতি বেশি ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতিতে বিএনপি নেতাকর্মীরা কিছুটা ভীতসন্ত্রস্ত।

উল্লেখ্য, গতকাল নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সময় শোডাউন না করতে নির্দেশনা ও সতর্কতা জারি করা হয়। এটি নির্বাচনি আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন উল্লেখ করে এমনটি না করতে সতর্কতা জারি করা হয়।

তবে আওয়ামীলীগের মনোনয়নপত্র বিক্রি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর এ নির্দেশনা ও সতর্কতা জারিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে বিএনপি।দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রশ্ন তোলেন, ‘চারদিন পরে কেন ইসির এমন নির্দেশনা? আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রির পরে কেন এমন সতর্কতা?’

ইসির এমন সতর্কতায় বিএনপি অবাক হয়নি উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘কারণ, নির্বাচন কমিশন পার্টির (আওয়ামী লীগ) কাজের ভূমিকা পালন করছে। প্রশাসনের এত নিয়ন্ত্রণ, গুম-খুনের পরও মনোনয়ন সংগ্রহ করতে মানুষের ভিড় দেখে দিশেহারা হয়ে গেছে সরকার। মনোনয়ন নেওয়ার জন্য দলীয় কার্যালয়ের সামনে সবাই আসবে, এটা স্বাভাবিক।’

প্রতিবাদের বহিঃপ্রকাশ দেখানোর জন্য মানুষের মিছিল বিএনপি কার্যালয়ে আসছে বলে মনে করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘এত মানুষ দেখে সরকার বিচলিত।’