টিডিএন বাংলা ডেস্ক: টানা পঞ্চমবারের মতো সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজপথে নেমেছে ফ্রান্সের ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনকারীরা। গত শনিবার সরকারি আহ্বান উপেক্ষা করে রাস্তায় নামে হাজারো বিক্ষোভকারী। তাদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ৯৫ বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্সেরপ্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহগুলোর তুলনায় শনিবার রাজপথে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল।

গত শনিবারের বিক্ষোভকে সামনে রেখে বিক্ষোভ শুরুর আগেই ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গত সপ্তাহে স্ট্রাসবুর্গের ক্রিসমাস মার্কেটে ভয়াবহ বন্দুক হামলার পর বিক্ষোভ স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। তবে সরকারের আহ্বান উপেক্ষা করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

ইয়েলো ভেস্ট পরে বিক্ষোভরত একজন আন্দোলনকারী লুয়িক বুলে জানান, গত সপ্তাহগুলোর চেয়েপ্রতিবাদ অনেকটা কমেছে। তবে বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের কারণ চিহ্নিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। স্ট্রাসবুর্গ হামলার পর পরিস্থিতি অপেক্ষাকৃত শান্ত হলেও আগামী শনিবার ও তার পরের শনিবার এটি ফের আগের রূপে ফিরবে।

এর আগে ১১ ডিসেম্বর টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নেওয়ারপ্রতিশ্রুতি দেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। নিম্ন আয়ের মানুষদের বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি করের বোঝা কমানোরপ্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বলেছেন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক খাতে জরুরি সংস্কার আনতে ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে সরকার।

দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য ‘প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা’ নেয়ারওপ্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, যত শিগগির সম্ভব জনগণের ওপর করের বোঝা কমানো হবে। সরকারি ব্যয় কমিয়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিক খাতের জরুরি সংস্কার সম্পন্ন করা হবে।

ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁপ্রতিশ্রুতি দেন, সীমিত আয়ের শ্রমিকদের ওপর থেকে করের বোঝা কমানো হবে। পেনশনভোগীদের ওপর আরোপিত কর বাড়ানোর পরিকল্পনা স্থগিত করা হবে। মাসিক বেতন কমপক্ষে ১০০ ইউরো বাড়ানো হবে। ওভারটাইমের ওপর কোনও কর বসানো হবে না।

অর্থনৈতিক সংকট এবং জ্বালানির ওপর কর বাড়ানোরপ্রতিবাদে গত ১৭ নভেম্বর থেকে ফ্রান্সে আন্দোলন শুরু হয়। ধীরে ধীরে সে আন্দোলন সরকারবিরোধী তথা পুঁজিবাদবিরোধী ‘হলুদ জ্যাকেট’ আন্দোলনে রূপ নেয়। গত কয়েকদিন ধরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ফ্রান্সের নিরাপত্তা বাহিনীর নজিরবিহীন সংঘর্ষ হয় যার ফলে অন্তত চারজন নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হয়। গ্রেফতার করা হয় সহস্রাধিক বিক্ষোভকারীকে। দেশজুড়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে এমন অস্থিরতার মধ্যেই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। জ্বালানির কর বৃদ্ধি ও জীবন যাপনের ক্ষেত্রে উচ্চ মূল্যসহ বিভিন্ন ইস্যুতেপ্রতিবাদ জানাতে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ ফ্রান্সের ইতিহাসে গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। ১ ডিসেম্বর প্যারিসের রাস্তায় কয়েক দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা হতে দেখা গেছে। সহিংসতায়প্রাণহানিও হয়। তুমুল বিক্ষোভের মুখে ফ্রান্স সরকার জ্বালানি কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করলেও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়ে যায়। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ববিহীন ইয়েলো ভেস্ট বিক্ষোভকারীরা সরকারের কাছে ন্যুনতম পেনশন, কর ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন, অবসরের বয়সসীমা কমানোসহ ৪০টিরও বেশি দাবি তুলে ধরে। বিক্ষোভপূর্ণ এ পরিস্থিতিকে ‘ব্যবসায়ের জন্য বিপর্যয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফরাসি অর্থমন্ত্রী।