তিয়াষা গুপ্ত, টিডিএন বাংলা : মাথায় অসহ্য যন্ত্রণা। মাঝে মধ্যেই যন্ত্রণায় কাতর হচ্ছিলেন এক মহিলা। ডাক্তাররা সন্দেহ করলেন মাইগ্রেন। পরামর্শ, অপারেশন করতে হবে। কিন্তু এ কী! অপারেশনের সময় বেড়িয়ে এল আস্ত জোঁক! ডাক্তারদের তো চক্ষু চড়কগাছ। এমন আবার হয় হয় নাকি! হয়েছে সুদূর ভিয়েতনামের হা গিয়াং প্রদেশে। জোঁক মুক্তির পর সেই মহিলা এখন সুস্থ। বারবার মাইগ্রেনের সমস্যা নিয়ে ৬৩ বছরের এক
মহিলা গিয়েছিলেন ডাক্তারদের কাছে। এ তো কোনও রোগ নয়। শরীরে বাসা বেঁধেছে জোঁক। তার জন্য প্রাণ যায় যায় অবস্থা ওই মহিলার।

অপারেশনের সময় ডাক্তাররা দেখতে পেলেন সাইনাসে কুণ্ডলী পাকিয়ে বসে আছে জোঁক। স্বভাবসিদ্ধভঙ্গিতে সে রক্তচুষে সেই মহিলাকে ক্রমশ অসাড় করে দিচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে ডাক্তাররা মনে করেছিলেন থ্রোট টিউমার হতে পারে। অপারেশন প্রয়োজন। কিন্তু জোঁকই যে যন্ত্রণার কারণ, সে কথা তাঁরা আগে বোঝেননি। আর একটু দেরি হলেই বড় বিপদ ঘটতে পারত। জোঁক রক্তচুষে শ্বাসনালীর দফারফা করে দিত। তাকে শেষপর্যন্ত বের করে রোগীকে স্বস্তি দিতে পেরেছেন ডাক্তাররা। প্রশ্ন হল কী করে জোঁক তাঁর শরীরে প্রবেশ করেছিল। ওই মহিলা ডাক্তারদের জানিয়েছেন, তাঁর বাস পাহাড়ি এলাকায়। মাঝে মধ্যেই ঝরনার জলে স্নান করেন। সেটাই তার কাল হয়েছিল। সেই সময় কোনোভাবে জোঁক তাঁর সাইনাসে প্রবেশ করেছে। ডাক্তারদের সফল অপারেশনে অবশেষে তিনি মুক্তি পেলেন জোঁক-যন্ত্রণা থেকে। কথায় বলে, জোঁকে ধরলে রেহাই নেই। নাছোড় জোঁককে ছাড়ানো মুশকিল। তাও আবার তার সাইনাসে প্রবেশ ঘটেছে। সে তো নিরুপদ্রব বসে থাকার প্রাণী নয়! তাই যা হবার তাই হয়েছে। এক প্রবীণার সাইনাস থেকে জোঁক বের করতে নাজেহাল হলেন ডাক্তাররা। শেষ ভালো যার সব ভালো। অবশেষে জোঁক মুক্তি তাঁর জীবনে স্বস্তি নিয়ে এল। এখন তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ, স্বাভাবিক। ধন্যবাদ জানাচ্ছেন ডাক্তারদের। ধন্যবাদ জানাচ্ছেন অদৃষ্টকে। কারণ দেরি হলে আরো বড় বিপদ হতে পারত।