টিডিএন বাংলা ডেস্ক: হিন্দু প্রেমী বলে তিনি পরিচিত। অথচ তাঁর আমলে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন বেড়েছে। বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকার তৃতীয় বারের জন্য ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম চার মাসে হিন্দু নির্যাতন বা সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ব্যাপক হারে বেড়েছে। গত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত চার মাসে ২৫০টি সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ।

রবিবার ঢাকার জাতীয় প্রেসকাবে এক সংবাদিক বৈঠকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে সাম্প্রদায়িক হিংসার চিত্র তুলে ধরা হয়। সাংবাদিক বৈঠকে বলা হয়, জানুয়ারী থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত হত্যার শিকার হয়েছেন ২৩ জন সংখ্যালঘু এবং মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে ৬ জনের। এ ছাড়া হত্যা চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে ১০টি। হত্যার হুমকি পেয়েছেন ১৭ জন এবং শারীরিকভাবে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮৮ জন। হিন্দুদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি-ঘরে লুটতরাজের ঘটনা ঘটেছে ৩১টি, চাঁদার দাবির ঘটনা ঘটেছে ৭টি, বাড়িঘর জমি-জমা থেকে উচ্ছেদ হয়েছে ১৬২জন, জবরদখলের প্রয়াসের ঘটনা ঘটেছে ৩৮টি, দেশত্যাগের হুমকি পেয়েছে ১৭জন, আক্রান্ত মঠ মন্দিরের সংখ্যা ২৯টি, ধর্মস্থানের সম্পদ লুন্ঠনের ঘটনা ঘটেছে ৯টি, বিগ্রহ চুরির ঘটনা ৬টি, জোর জবরদখলকৃত ধর্মস্থানের সংখ্যা ৬টি, ধর্মস্থান জবরদখলের ঘটনার অপপ্রয়াস ১০টি, বিগ্রহ ভাংচুরের ঘটনা ৪৩টি, গণধর্ষনের ঘটনা ৫টি, ধর্ষণের ঘটনা ৭টি, ধর্ষণের অপপ্রয়াস ১টি, যৌন হয়রানির ঘটনা ১০টি, ধর্ষণ ও উত্যক্তের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন ৩ জন, নিখোঁজ ৩ জন, অপহৃত হয়েছে ৬ জন, অপহরনের প্রয়াসের ঘটনা ২টি, অপহরন করে জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরনের ঘটনা ১টি, জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরনের অপপ্রয়াস ২টি, ধর্মান্তরিত হয়েছেন ১০৪জন।

লিখিত বক্তব্যে এসব চিত্র তুলে ধরেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত। বছরের প্রথম ৪ মাসের সাম্প্রদায়িক হিংসার চিত্র পুরো ২০১৮ সালের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক হিংসার মাত্রা আগের তুলনায় অনেকটা বেড়েছে। ২০১৮ সালে পুরো এক বছরে ৮০৬টি সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটেছিল।

এই চার মাসে হিংসা বৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক হিংসা বন্ধে হাসিনা সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষিত হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবায়ন নেই। আমরা জিরো টলারেন্স ঘোষণার বাস্তবায়ন চাই।

সাংবাদিক বৈঠকে পঞ্চগড়ের কারাগারে আইনজীবী পলাশ রায়ের মৃত্যু, সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের খোঁজে তাঁর ফরিদপুরের বাসভবনে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হামলা, মানবাধিকার কর্মী প্রিয়া সাহার পৈতৃক বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, বিশিষ্ট নাগরিক সুলতানা কামাল, শাহরিয়ার কবির ও মুনতাসীর মামুনকে হত্যার হুমকিসহ কয়েকটি ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের দাবিতে ২৫ মে সারা দেশে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি নেওয়া হয়। ওই দিন বেলা ১১টার দিকে এই কর্মসূচি পালিত হবে। তবে ঢাকায় এই কর্মসূচি পালিত হবে জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে সকাল সাড়ে ১০টায়। এই তথ্য সামনে আসার পর যথেষ্ট আতঙ্ক ছড়িয়েছে। হাসিনা সরকার সংখ্যালঘুদের জন্য কী করেন, এখন সেটাই দেখার।