টিডিএন বাংলা ডেস্ক: রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে রাশিয়া যাচ্ছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান। সেখানে সিরিয়ায় তুর্কি অভিযান নিয়ে কথা বলবেন দুই নেতা। আগামী ২২ অক্টোবর সোচিতে ওই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অন্যতম প্রধান মিত্র রাশিয়া। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণায় হঠাৎ বিপাকে পড়ে যাওয়া কুর্দিরা শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার মধ্যস্থতায় সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর সহায়তা চেয়ে চুক্তি করেছে। যদিও কুর্দি নেতা জানিয়েছেন, তাঁরা রাশিয়া ও সিরিয়ার ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না। সমালোচকদের ভাষ্য, গত সপ্তাহে ওই অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সেনা সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার মধ্য দিয়ে তুরস্ককে হামলার ‘সবুজ সংকেত’ দিয়েছে।

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দিদের পক্ষে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের গত সপ্তাহে প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর সিরিয়ার সীমান্ত এলাকায় সেনা সমাবেশ ঘটিয়ে কুর্দিদের ওপর হামলা শুরু করে তুরস্ক। এই হামলায় তুরস্কের সঙ্গে রয়েছে সিরিয়ার বিদ্রোহী যোদ্ধারা। সিরিয়ায় মস্কোর বিশেষ দূত আলেকজান্দ্রার লাভ্রেনতেভ বলেছেন, ‘এটা (তুরস্ক-সিরিয়া সংঘাত) একেবারেই অগ্রহণযোগ্য…অবশ্যই আমরা এটা বরদাশত করব না।’

বুধবার এরদোয়ানের দফতর থেকে জানানো হয় সোচির ব্ল্যাক সি রিসোর্টে বৈঠকে বসবেন এরদোয়ান ও পুতিন। তবে বৈঠকের আলোচ্যসূচি নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তারা। রুশ প্রেসিডেন্টেরে দফতর থেকে বলা হয়েছে, পুতিনের আমন্ত্রণে সেখানে যাচ্ছেন এরদোয়ান।
পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেস্কোভ বলেন, সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের এই বৈঠকে অংশ নেওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।

কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সকে (এসডিএফ) লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে তুর্কি সেনারা। ওই অঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) নির্মূলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করে এসডিএফ। তবে তুরস্ক উল্টো এসডিএফকে জঙ্গি সংগঠন বলে মনে করে। সীমান্ত থেকে ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত ‘নিরাপদ এলাকা’ গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়ে সেখানে তুরস্কে অবস্থান নেওয়া সিরিয়ার শরণার্থীদের বড় একটি অংশকে পুনর্বাসনের কথা বলছে। তবে শরণার্থীদের অনেকেই কুর্দি না হওয়ায় তুরস্কের এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে কুর্দিরা জাতিগত নিধনের শিকার হতে পারে বলে সতর্ক করছেন সমালোচকেরা।
জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, তুরস্ক হামলা চালানোর পর সেখানে ডজন ডজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। কমপক্ষে ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।