টিডিএন বাংলা ডেস্ক : বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার চকবাজারের একটি ভবনে বুধবার রাতে ভয়াবহ আগুন লাগে। পরে এই আগুন আশপাশের ভবনেও ছড়িয়ে পড়ে বিধ্বংসী রূপ নেয়। এই আগুন নেভাতে রাতভর চেষ্টা চালায় ফায়ার সার্ভিস।
তবে প্রথমে বলা হচ্ছিল গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ফলে এই আগুন লাগে কিন্তু তদন্ত রিপোর্টে উঠে এসেছে অন্য তথ্য। চকবাজারে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে গ্যাসের সিলিন্ডার ফেটে। গ্যাসের সিলিন্ডারটি ওয়াহেদ ম্যানসনের হোটেলের সামনে রাখা গ্যাস ভ্যান থেকে বিস্ফোরিত হয়েছে। এমনকি অগ্নিদগ্ধ কারও দেহে কেমিক্যালের চিহ্ন বা গন্ধ পাওয়া যায়নি। শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।

এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডারবাহী একটি গাড়ি রাখা ছিল। এ সময় হোটেল অথবা গাড়ি রাখা একটি গ্যাস সিলিন্ডার হঠাৎ করে বিস্ফোরিত হয়। ওই বিস্ফোরণে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই আগুন বৈদ্যুতিক লাইনের ট্রান্সফরমারে ধরে যায়। এতে ওই ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ ঘটে। এর ফলে ওই পুরো এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ফলে ওই স্থানের বাসিন্দারা অন্ধকারে বের হওয়ার পথ হারিয়ে ফেলেন। ওয়াহেদ ম্যানসন ও বাচ্চু মিয়ার বাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এ ছাড়া আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিলিন্ডারবাহী গাড়িটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। রাস্তায় কসমেটিকসের প্রচুর বোতল ও প্লাস্টিকের গ্রেনুলার ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সাতজন নারী ও পাঁচ শিশু রয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দগ্ধ ৫২ জন ভর্তি হয়েছিলেন। এদের মধ্যে ৪১ জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়ে যান। বাকি ১১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে নয়জন বার্ন ইউনিটে এবং বাকি দুজন ক্যাজুয়ালটি ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন যে, ভর্তি হওয়া অগ্নিদ্বগ্ধ রোগী কারও থেকে কেমিক্যালের চিহ্ন অথবা গন্ধ পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া অগ্নিদগ্ধ দেহগুলো ড্রাই ফ্লেমে দগ্ধ ছিল।