মোকতার হোসেন মন্ডল, কলকাতা : বাংলাদেশের শাসক দল সেখ হাসিনার পক্ষে কিছু উমেদার হিন্দু আছেন।আমাদের পশ্চিমবঙ্গের কিছু লোক এঁদেরকে সমগ্র হিন্দুদের নেতা মনে করেন।এর ফলে শাসক দল আওয়ামীলীগ কর্তৃক হিন্দু অত্যাচারের কাহিনী ধামা চাপা পড়ে যায়।বাংলাদেশের বহু হিন্দু যে হাসিনা বিরোধী এবং তাঁরা জামাত বিএনপির সাথে,জাতীয় পার্টি,জাসদ সহ একাধিক সংগঠনে যুক্ত ,এটা অনেকেই ভুলে যায় বা চেপে যায়।কী ভাবে?বিষয়টা একটু খুলে বলি-পশ্চিমবঙ্গে এক সময় বামেরা ছিল।তখন মুসলিমদের একটা অংশ বামেদের সাথে ছিল।কিন্তু প্রচার ছিল মুসলিমদের সব লোক বামেদের সাথে।কিন্তু তখনও বহু মুসলিম কংগ্রেস,তৃণমূল বা অন্য দল করেছে।মুসলিম সংগঠন ছিল, আজও আছে।আজকের প্রেক্ষাপটে কিছু আলেম,উলামা তৃণমূলে আছে দেখে অনেকেই ভাবেন যে,মুসলিমদের সকলে তৃণমূলে চলে গেছে।আপাতত তৃণমূলের কিছু মুসলিম নেতাদের মমতা ব্যানার্জির প্রসংসা শুনে মনে হবে,মমতাই মুসলিমদের রক্ষক।আসলে কি তাই?বাম ও তৃণমূল আমলে মুসলিম বঞ্চনার করুন কাহিনী কি উঠে আসেনি?রাজ্যের বাইরে দেশের কথা ধরলে,মুসলিমদের একটা বিরাট অংশ কংগ্রেস করেছেন।অথচ সব চেয়ে বেশি দাঙ্গা কংগ্রেস আমলে হয়েছে।মুসলিম যুবকদের মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো, ভুয়ো সংঘর্ষ, নাটকীয় সন্ত্রাস সব হয়েছে কংগ্রেস আমলে।মুসলিমদের একটা অংশ বিজেপিও করে।তার পরেও কিন্তু বিজেপি মুসলিম বিরোধী দল হিসেবে পরিচিত।এক সময় তৃণমূলকে অনেকে মুসলিম বিরোধী মনে করতেন।আবার অনেকে বাম,তৃণমূল,কংগ্রেস সব দলকেই মুসলিমদের বিরোধী মনে করে।আজ যেমন ভারতের সংখ্যালঘু নির্যাতন বলতে মুসলিমদের বোঝে অনেকে,তেমনি বাংলাদেশেও সংখ্যালঘু বলতে হিন্দুদের ভাবছে।আবার হিন্দুদের মধ্যে দলিত -অদলিতের ব্যাপার আছে।খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, জৈন, মতুয়া সহ শতশত ধর্মীয় সংখ্যালঘুর কথা আমরা আলোচনাই করিনা।না ভারতে,না বাংলাদেশ,পাকিস্তান, মায়ানমারে।কংগ্রেস আমলে যেমন বাম ও নানা আঞ্চলিক দলের সহযোগিতা নিয়ে ইউপিএ সরকার চলছিল কিন্তু সংখ্যালঘু নির্যাতনের সব দায়িত্ব কংগ্রেসকে নিতে হয়েছে আজও বাংলাদেশে হাসিনার পাশে বহু বাম ও ডান পন্থী ছোট দল থাকলেও সংখ্যালঘু পীড়নের দায় আওয়ামীলীগকে নিতে হয়।আসলে সফলতা বিফলতা শাসকের এবং সংখ্যা গরিষ্ঠ দলের উপরেই নির্ভর করে বলে এমনটা হয় দেশে দেশে।যায় হোক,আমাদের এমনটা ভাবলে হবেনা, জামাত-বি এনপি সংখ্যালঘু বিরোধী।মনে রাখবেন এই দলগুলিতে বহু হিন্দু আছেন এবং তাঁরা ভোটে লড়াই করেন।আমাদের এটাও দেখতে হবে স্বাধীনতার পর থেকে কোন আমলে সংখ্যালঘু নির্যাতন বেড়েছে।ভারতে যেমন শোনা যায়,কংগ্রেস মুসলিমদের কাছে ভালো ,অথচ সংখ্যালঘু নিপীড়ন,মসজিদ ধ্বংস এই কংগ্রেস আমলে হয়েছে বেশি।হাসিনার ক্ষেত্রে এমনটা ঘটছে বলে অনেকেই মনে করেন।তাহলে সমস্যা কোথায়?সংকীর্ণ রাজনীতি।বাংলাদেশে আজ পরিবার তন্ত্র চলছে।গণতন্ত্র নেই।বিরোধী দল নির্বাচন বয়কট করাই হাসিনা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আজ মসনদের দখল নিয়েছেন।নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা নেই অনেকের।নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি হাসিনা সরকার মানেনি।যে বিএনপি জামাত এতদিন ক্ষমতায় ছিল তাঁরা আজ সংসদ, ভোট বয়কট করে গ্রহণ যোগ্য নির্বাচন চেয়েছেন।বিরোধী দলের মর্যাদা বাংলাদেশে কোনও দিন ছিলোনা,আজও নেই।দেশটিতে গণতন্ত্র এখনও মজবুত হয়নি।নির্বাচন কমিশনের ওপর বহু লোকের আস্থা নেই।তাই দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও সংখ্যালঘু মঙ্গল করতে সবার আগে দরকার সব দলকে নিয়ে আলোচনা ও গ্রহণ যোগ্য নির্বাচন।এ ব্যাপারে শাসকের অনেক দায়িত্ব আছে।বিরোধী দলকেও বিশেষ ভূমিকা নিতে হবে।গণতন্ত্র যে উপাদানের উপর দাঁড়িয়ে তা প্রতিষ্ঠা হলে কোনও দেশে মানুষের অধিকার লংঘিত হবে বলে মনে হয়না।সব দেশে রাজনৈতিক হিংসা আছে।পারিবারিক,সামাজিক দ্বন্দ্ব,ব্যাক্তিগত রেষারেষির কারণে অনেক সংখ্যালঘু খুন হন।সবগুলোকে সংখ্যালঘু নির্যাতন বলে চেঁচিয়ে শাসক বা বিরোধী বা নির্দিষ্ট একটা গোষ্ঠীকে দায়ী করলে ঠিক হবেনা।পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে হাজার হাজার মুসলিম খুন হয়েছেন,আর এর ফায়দা তুলেছে হিন্দুরা।তবে কি বলবেন,হিন্দুরা মুসলিমদের খুন করছে?না।আসলে দেশে দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন চলছে।রাশিয়া, আমেরিকা, চীন,পাকিস্তান, আফগান,মায়ানমার, ফ্রান্স সব দেশে।আর সব দেশে সৎ, আদর্শ কিছু মানুষের প্রতিবাদ,কবিতাও আছে।পৃথিবীতে যতদিন না মূল্যবোধ ভিত্তিক,জনকল্যানমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, ততদিন সাম্য সুবিচার, স্বাধীনতার গল্প গুলি,জাতপাত, ধর্ম, ভাষার মধ্যে আবদ্ধ থাকবে।আর মানসিক সুখী না হলেও অর্থ সুখে সুখী হবেন কিছু নেতা,মন্ত্রী ও মুনাফালোভী মানুষ।আজ এক শ্রেণীর মুনাফিক জাতির সাথে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভারতের মুসলিমদের শেষ করছে আর নিজেদের পেট ভরছে,কিন্তু মরছে সাধারণ মুসলিমরা।তেমনি বাংলাদেশের হাসিনা পন্থী হিন্দু নেতারা সাধারণ হিন্দুদের সাথে গাদ্দারি করছেন।হিন্দুদের বাড়ি ধ্বংস হওয়ার পরেও কী করে হিন্দু নেতারা আওয়ামীলীগের সাথে থাকতে পারে?বিএনপি,আওয়ামীলীগ ছেড়ে কেন তাঁরা বেরিয়ে আসছেন না?কেন সংসদে হিন্দু নির্যাতন নিয়ে কথা বলছেন না?নাকি ক্ষমতার লোভে জাতিকে নিয়ে রাজনীতি করছেন?জবাব আপনারা না দিলেও একদিন মানুষ দেবে।ভারতের মুসলিমদের ধ্বংস করছে এখানকার তৃণমূল, সিপিআইএম,কংগ্রেসের মুসলিম নেতারা।বাংলাদেশে হাসিনা, খালেদার হিন্দু নেতারা।
#টিডিএন বাংলা