marrage ceremony সৌদি আরবে বিয়ে সাধারণত এক এলাহি কারবার। বিয়ের অনুষ্ঠান মানে বরের সজ্জিত তরবারি, নাচ-গান এবং শত শত মেহমান। এ সবকিছুই এক ধরনের সামাজিক বাধ্যবাধকতা এবং নিজেদের জাহির করা। বিয়ের অনুষ্ঠানের বিরাট অংকের খরচের চাপ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বরকেই বহন করতে হয়। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর তরুণরা ভাঙতে শুরু করেছে এ প্রথা।

সৌদি তরুণ বাসিল আলবানি পারিবারিক প্রথা ও সামাজিক চাপকে উপেক্ষা করে ঘরেই তার বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। ২৬ বছর বয়সী এ ইন্স্যুরেন্স কর্মী তার বিয়েতে দুই ডজনেরও কম মেহমান দাওয়াত করেছেন। পশ্চিম জেদ্দায় পূর্বপুরুষের ভিটায় আয়োজিত এ বিয়েতে খাবারের মেনুতে ছিল স্থানীয় ‘কাবসা’। কাবসায় সাধারণত থাকে ভাত আর মাংস। সৌদি মাপে এ আয়োজন অতি নগণ্য হলেও বাসিল আলবানি এতে চাপমুক্তভাবে তার বিয়ের পর্ব সারতে পেরেছেন।

বাসিল আলবানির ছোট ভাই ২১ বছর বয়সী মান আলবানি জানান, বিয়ের অনুষ্ঠানে মানুষ শত শত মেহমানকে দাওয়াত করে। সেরা শিল্পী, সেরা ব্যান্ড ও সেরা বিয়ের পোশাক কিনতে এক রাতে লাখ লাখ রিয়াল খরচ করে। এটা নিছক পাগলামি। আমরা আমাদের বাড়িতে ছোট পরিসরে ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করেছি। এটা বেশ মজার ছিল।

সৌদি আরবে অপচয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ  বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রচলন থাকলেও দেশটিতে কেউ বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করলে তাকে সাধারণত দরিদ্র হিসেবেই ধরে নেয়া হয়।

সৌদি অর্থনীতি তার আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। দেশটিতে পণ্য ও সেবায় ভর্তুকি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মূল্য সংযোজন করও যুক্ত করা হয়েছে। ফলে দেশটির জনগণ অপচয় করার মানসিকতা থেকে ধীরে ধীরে বের হয়ে আসছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিয়ের বাজারেও।

সৌদি আরবে গত বছর আন্তর্জাতিক বিবাহ মেলার আয়োজকরা জানিয়েছেন, সৌদির বার্ষিক বিবাহসংক্রান্ত ব্যয় ২০০ কোটি রিয়াল ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু দুটি বিখ্যাত বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, গত বছর বিবাহসংক্রান্ত ব্যয় ২৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। রিয়াদের এক খুচরা বিয়ের কার্ড বিক্রেতা জানিয়েছেন, তার ব্যবসা গত কয়েক বছরে ৭০ শতাংশ পড়ে গেছে। কারণ, ক্রেতারা কম দামে ভালো ডিজাইনের কার্ড চায়।

২৯ বছর বয়সী উবার চালক মুরতাদা আল-আবাওয়ি জানান, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বিয়ে করা কোনোমতেই ঠিক না। তিনি বলেন, বিয়েতে সাধারণত হল ভাড়া, যৌতুক ও কনের সাজসজ্জা মিলিয়ে ৮০ হাজার রিয়াল (২১ হাজার ৩০০ ডলার) খরচ পড়ে

যায়। কিন্তু এত অর্থ ব্যয় করার কোনো ইচ্ছে তার নেই। যার কারণে পরিবার ও সমাজের বিরুদ্ধে গিয়েই মুরতাদা তার বিয়ের আয়োজন করেন। বিয়েতে খরচ পড়ে মাত্র ৯ হাজার রিয়াল (২ হাজার ৪০০ ডলার)। তাছাড়া, যৌতুক, গহনা কিংবা বিবাহ-পরবর্তী কোনো অনুষ্ঠান ছিল না এ বিয়েতে।

২০১৭ সালে সৌদি লেখক আবদুল ঘানি আল-গাশ ‘ব্যয়বহুল বিয়ে, অর্থের অপচয়’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ লেখেন। এ নিবন্ধে তিনি সৌদির ধর্মীয় পণ্ডিতদের সমালোচনা করেন। তার বক্তব্য ছিল, এ পণ্ডিতরা সাধারণ জনগণকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছেন যে, বিয়ে নিজেকে জাহির করার কোনো বিষয় নয়।