টিডিএন বাংলা ডেস্ক: জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষ চলাকালে ইরানের ২১টি শহরে শতাধিক প্রতিবাদকারী নিহত হয়েছেন বলে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে।

স্নাইপাররা ছাদ থেকে রাস্তায় জড়ো হওয়া প্রতিবাদকারীদের গুলী করেছে ও একটি ক্ষেত্রে হেলিকপ্টার থেকেও গুলী করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটি।
ইরানে জ্বালানির মূল্য অন্তত ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণার পর শুক্রবার থেকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়।

প্রতিবাদকারীরা না থামলে ‘চূড়ান্ত’ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে সোমবার সতর্ক করেছিল ইরানের অভিজাত রেভোল্যুশনারি গার্ড বাহিনী। এর একদিন পর মঙ্গলবার প্রতিবাদের মাত্রা হ্রাস পেয়েছে বলে জানান এক ইরানী কর্মকর্তা।
লন্ডনভিত্তিক অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের পাঠানো বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদন, যাচাই করা ভিডিও ও মানবাধিকার আন্দোলনকারীদের পাঠানো তথ্যানুযায়ী ইরানের ২১টি শহরে অন্তত ১০৬ জন প্রতিবাদকারী নিহত হয়েছেন। এক বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি বলেছে,
“মৃতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে সংস্থাটি বিশ্বাস করে, কিছু প্রতিবেদনে প্রায় ২০০ জনের মতো নিহত হয়েছেন বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে।”

সংস্থাটি আরও বলছে, “প্রতিবেদনগুলোতে ইরানী নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর অবৈধ হত্যাকা-ের মর্মস্পর্শী নমুনা এবং মূলত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমনে তারা অতিরিক্ত ও প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করেছে, এমনটি প্রকাশ পেয়েছে।”
গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ও নিরাপত্তা বাহিনী মৃতদেহগুলো তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে কবর দিতে অন্যদের বাধ্য করেছে বলেও অভিযোগ অ্যামনেস্টির।
এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের বিচার বিভাগের মুখপাত্র গোলাম হোসেন ইসমাইলি শান্তি ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
কিন্তু ইন্টারনেট বন্ধ থাকা সত্ত্বেও তা লঙ্ঘন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে সোমবার রাতে রাস্তায় নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতির পরও প্রতিবাদ অব্যাহত আছে, এমনটি দেখা গেছে বলে জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা ছবিগুলো যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে বার্তা সংস্থাটি জানিয়েছে। প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ইরানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
অস্থিরতা চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশ সদস্যও খুন হয়েছেন। তেহরানে তিন জনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে সোমবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইরানের আধা-স্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থা।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন দপ্তর জানিয়েছে, বহু লোক নিহত হয়েছে বলে প্রতিবেদন পেয়েছে তারা। নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর তাজা গুলি ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবাদ দমনে শক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে ইরানী কর্তৃপক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে তারা।