টিডিএন বাংলা ডেস্ক: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার সরকারকে হটাতে দেশটির বিরোধী দলগুলি একসঙ্গে বিক্ষোভে নেমেছে। ইমরান খানকে পদত্যাগ করতে শুক্রবার বিরোধীরা ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে।

ইমরান খানকে উৎখাতে গত বুধবার লাহোর থেকে শুরু হয় ‘আজাদি মার্চ’। এর নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির জামায়াতে উলামায়ে ইসলাম (জেইউআই) পার্টির আমির প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান। আজাদি মার্চের মিছিলে শামিল হয় পাকিস্তান পিপল’স পার্টি (পিপিপি), আওয়ামি ন্যাশনাল পার্টির (এএনপি) নেতারা। ইমরান খান সরকারকে উৎখাতের সংকল্প নিয়ে এই মহামিছিল বৃহস্পতিবার রাজধানী ইসলামাবাদে এসে পৌঁছায়। জানা যায়, মিছিলে হাজার হাজার জনতা যোগ দেয়।

শুক্রবার কয়েক হাজার মানুষের জমায়েতে পাকিস্তান মুসলিম লীগের (পিএমএল) সভাপতি শেহবাজ শরিফ বলেন, এই ভুয়ো সরকারকে উৎখাতের সময় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা না দেওয়া পর্যন্ত আমরা ইমরান খানকে শান্তিতে থাকতে দেব না।

এছাড়া জেইউআই পার্টির প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, ভোট কারচুপি করেই দেশের ক্ষমতায় এসেছেন প্রধানমন্ত্রী। এখনই তার পদত্যাগ করা উচিত। না হলে আমরাই তাকে উৎখাত করবো।

তিনি আরো বলেন, ইমরান খানের সরকার সেনাবাহিনীর ওপর ভর করে টিকে আছে। তাকে ও তার সরকারকে পদত্যাগের জন্য ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলাম।

২০১৮ সালের আগস্টে নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করে প্রাক্তন ক্রিকেটার ইমরান খানের তেহরিক-ই ইনসাফ দল৷ বিরোধী দলগুলো নির্বাচন নিয়ে তখন থেকেই প্রশ্ন তুলে আসছে৷ তারা মনে করে, সেনাবাহিনীর সহায়তায় নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি করে ক্ষমতায় এসেছেন ইমরান৷

দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করবেন, ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে টেনে তুলবেন— মূলত এই দুটো অঙ্গীকার করেই ভোট চেয়েছিলেন পাকিস্তানকে ১৯৯২-এর বিশ্বকাপ জেতানো প্রাক্তন অলরাউন্ডার৷ কিন্তু এক বছরেরও বেশি সময়ে কোনো ক্ষেত্রেই পরিবর্তনের তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি৷ তাই সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলগুলো বিক্ষোভ শুরু করে৷

ক্রিকেটারদের মধ্যে রাজনীতিতে সবচেয়ে সফল ইমরান খান৷ ১৯৯২ ক্রিকেট বিশ্বকাপ জেতা পাকিস্তান দলের অধিনায়ক ইমরান খান৷ ১৯৯৬ সালে যোগ দেন রাজনীতিতে৷ গঠন করেন রাজনৈতিক দল তেহরিক-ই-ইনসাফ৷ ২০১৮-র সাধারণ নির্বাচনে তাঁর দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়৷ তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন৷

তবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা নির্বাচিত ও সংবিধানসম্মত সরকারকে সমর্থন করে। রাজধানী ইসলামাবাদে সরকারবিরোধী হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভকালে দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এমনই বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।