টিডিএন বাংলা ডেস্ক: শ্রীলঙ্কায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৯০, আহত ৫০০। ইস্টার সানডের সকাল মুহূর্তে বদলে গেল আর্ত চিৎকার, দেহাংশের স্তূপে। কলম্বোর তিনটি বিলাসবহুল হোটেল ও চার্চে, নেগোম্বোর সেন্ট সেবাস্টিয়ান চার্চ এবং বাটিকালোয়ার চার্চে ঘটে বিস্ফোরণ।

সকাল থেকে শুরু করে দুপুরেও বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে শ্রীলঙ্কা। সবমিলিয়ে মোট ৮টি বিস্ফোরণ হয়েছে। মূহূর্তে ছন্দবদ্ধ জীবন ছারখার হয়ে গেল।

চার দিকে ভেঙে পড়া ভেঙে পড়া অংশের টুকরো, কাঠের বেঞ্চের খণ্ড-বিখণ্ড অংশ। আর যে দেহগুলির মোটামুটি অখণ্ড খোঁজ মিলেছে, সেগুলি সাদা চাদর দিয়ে ঢাকা। কারও উপর আবার স্কার্ফের আচ্ছাদন। তবে মৃতদেহের শেষ সম্মানটুকুও জোটেনি তাঁদের। কারণ দেহের আশপাশে গির্জার ছাদের ভেঙে পড়া অংশের চাঙর, টাইলসের টুকরো, আবর্জনার স্তুপ আর চাপ চাপ রক্ত। শেষযাত্রায় জমিটুকুও ভাগ্যে জোটেনি নিহতদের। বিশেষত সাংগ্রি-লা তৃতীয় তলের রেস্তোরাঁ পুরো ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে, উড়ে গিয়েছে জানলা ও ছাদ। পুড়ে যাওয়া অংশ থেকে ঝুলন্ত তারের গুচ্ছ মনে করিয়ে দিচ্ছে, কী প্রচণ্ড শক্তিশালী বিস্ফোরণে উড়েছে ওই অভিজাত হোটেল।

বিভিন্ন হাসপাতালে জখমদের চিকিৎসা চলছে। এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি গোষ্ঠী ওই হামলার দায় স্বীকার না করলেও গোয়েন্দাদের সন্দেহ এনটিজে বা ন্যাশনাল ত্বহিদ জামাতের দিকে। এনটিজে জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন, শ্রীলঙ্কার ইস্টার্ন প্রভিন্সের গভর্নর মেহমুদ লেব্বে আলিম। তবে দিন দশেক আগেই শ্রীলঙ্কার পুলিস প্রধান সম্ভাব্য জঙ্গি হানার সতর্কতা দিয়েছিলেন। নাম নিয়েছিলেন এনটিজে-র। হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ২৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।