টিডিএন বাংলা ডেস্ক: জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার ঘটনার পর ক্ষোভে উত্তাল হয়ে রয়েছে ইরান। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ ৮ বছর পর জুম্মার নামাজে ইমামতি করলেন ৮০ বছর বয়সী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি। শুক্রবার তিনি তেহরানের মোসাল্লা মসজিদে চলতি সপ্তাহের জুমার নামাজের ইমামতি করেন। এর আগে ২০১২ সালে ইসলামী বিপ্লবের ৩৩তম বার্ষিকীতে জুমায় ইমামতি করেছিলেন। তখন আরব বসন্তের প্রভাবে পুরো মধ্যপ্রাচ্য উত্তাল ছিল।

এদিন তিনি জুম্মার নামাজের খুতবায় বলেন, ‘আমেরিকা নিজেকে পরাশক্তি দাবি করে দম্ভ দেখায়, জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে তা আমেরিকার সেই দম্ভে আঘাত করেছে। ড্রোন হামলা চালিয়ে কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা মার্কিন প্রশাসনের জন্য লজ্জার। এটা তাদের সন্ত্রাসী চরিত্র’।

তিনি আরও বলেন, তারা এখন বলছে আমাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করবে, কিন্তু এসবের মাধ্যমে তারা তাদের হারানো সম্মান ফিরে পাবে না। এসময় ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র দশ বারের বেশি ধ্বংস হয়ে যাবে।

জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরানে এবং ইরাকে লাখ লাখ মানুষ তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে।

উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে ড্রোন হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়। এই হত্যার বদলা নিতে গত ৮ জানুয়ারি ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এর কয়েক ঘণ্টা পরই ইউক্রেন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট পিএস ৭৫২ তেহরানে বিধ্বস্ত হয়। বিমানের ১৭৬ আরোহীর সবাই নিহত হন।

এরপর থেকেই ইরানের বিভিন্ন শহরে আন্দোলন অব্যাহত হয়েছে। আন্দোলন হচ্ছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরেও। তবে সবার দৃষ্টি তেহরানের আজাদি চত্বরে। আন্দোলনে পুলিশের গুলি চালানোরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় পূর্ণ বিবরণ দিতে সামরিক বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।