টিডিএন বাংলা ডেস্ক: ডাঃ জাকির নায়েককে ১০ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে মালয়েশিয়ার পুলিশ। সম্প্রতি জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিয়ে বর্ণবাদী মন্তব্য করার অভিযোগে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হলো। এর আগে গত শুক্রবার ৫ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল তাকে।

মালয়েশিয়ায় ধর্ম ও জাতিগত ইস্যুকে স্পর্শকাতর বিবেচনা করা হয়। দেশটির ৬০ শতাংশ মানুষ মুসলমান আর বাকিরা চীন ও ভারতের নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী। এদের বেশিরভাগই সনাতন ধর্মাবলম্বী। সম্প্রতি জাকির মন্তব্য করেছেন, ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের চেয়ে মালয়েশিয়ায় থাকা সংখ্যালঘু হিন্দুরা শতগুণ বেশি অধিকার ভোগ করছে। তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী হিন্দুরা মাহাথিরের নয়,ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সমর্থক। এই মন্তব্যের জেরে জাকির নায়েককে মালয়েশিয়া থেকে বের করে দেওয়ার প্রসঙ্গটি আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় পুলিশি তদন্ত চলছে।

তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সোমবার দেশটির বুকিত আমান পুলিশ সদর দফতরে জবানবন্দি দিতে আসেন ৫৪ বছর বয়সী জাকির নায়েক। মালয়েশীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডির পরিচালক দাতুক হুজির মোহাম্মদ সে দেশের সংবাদমাধ্যম স্টার অনলাইনকে বলেছেন, সোমবার বিকাল সোয়া তিনটার দিকে আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে জবানবন্দি দিতে আসেন তিনি। প্রায় ১০ ঘণ্টা পর রাত দেড়টার দিকে সদর দফতর ত্যাগ করেন। দাতুক হুজির বলেন, শান্তি নিষ্টের অভিযোগ এনে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৫০৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত ৩ আগস্ট কোতা বারুতে এক আলোচনায় জাকির নায়েক হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে নিয়ে বর্ণবাদী মন্তব্য করেছিলেন। এই মন্তব্যের জেরে তাকে মালয়েশিয়া থেকে বের করে দেওয়ার প্রসঙ্গ সামনে আসার পর তিনি আবারও জাতিগত সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু বানান। গত ৮ আগস্ট কেলানতান প্রদেশে এক আলোচনায় তিনি বলেন,প্রথমে জাতিগত সংখ্যালঘুদের চলে যেতে হবে কারণ তারা মালয়েশিয়ার অতিথি। তিনি বলেন,আপনারা জানেন কেউ কেউ আমাকে অতিথি বলে। সুতরাং আমি বলি আমার আগে চীনারা এখানকার অতিথি। নতুন অতিথিকে আপনি যদি চলে যেতে বলেন,তাহলে পুরনো অতিথিদেরও ফিরে যেতে বলুন।