টিডিএন বাংলা ডেস্ক: দেশের অর্থনীতি একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। এদিকে ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদির সরকারের প্রতি। আর এই নিয়ে এবার দাভােসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম এর মঞ্চ থেকে নরেন্দ্র মােদির সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন মার্কিন হাঙ্গেরীয় ধনকুবের জজ সােরস। ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তােলার প্রচেষ্টায় গণতন্ত্রকে মােদি ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন বলে দাবি করেছেন সােরস।


 তিনি বলেন, কাশ্মীরের মতাে মুসলিম প্রভাবিত অঞ্চলে মােদি সরকারের কঠোর পদক্ষেপ একটা বড় আশঙ্কার বিষয় । মােদির হিন্দু রাষ্ট্র বানানাের তাগিদে দেশের লক্ষ লক্ষ মুসলিমকে তাদের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করার হুমকি দিচ্ছেন। সরাসরি না বললেও তিনি যে সংশোধিত নাগরিক আইন ( সিএএ ) এবং ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের কথাই বলতে চেয়েছেন, সােরসের মন্তব্য থেকে তা স্পষ্ট ।

 ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এই মঞ্চ থেকেই তিনি আক্রমণ শানিয়েছেন আমেরিকা , চিন , রাশিয়ার মতাে শক্তিধর দেশগুলােকে। বিশ্বজুড়ে কীভাবে রাষ্ট্রনেতারা একনায়কতন্ত্রকে প্রশ্রয় দিয়ে চলেছেন সেই প্রসঙ্গও তুলে ধরে দুঃখপ্রকাশ করেছেন সােরস। এরপরই ভারতের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে মােদির শাসননীতি নিয়ে অাশঙ্কা প্রকাশ করেন


 ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল সরব হলেও নরেন্দ্র মোদির সরকার জানিয়ে দিয়েছিল বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীণ। সিএএ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল থেকে তেমন কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে দেশের অভ্যন্তরে যে ভাবে এই আইনের বিরােধিতায় একটা সরগরম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে , যে ভাবে জনমত নির্বিশেষে সকলেই রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে গর্জে উঠেছে , তা নিয়ে মােদিকে প্রবল সমালােচনার মুখে পড়তে হয়েছে।সমালােচনাটা এতদিন সীমাবদ্ধ ছিল দেশের অভ্যন্তরেই। এবার সমালােচনাটা এল দাভােসের মঞ্চ থেকে।

শুধু মােদিই নয়, সােরসের নিশানায় ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডােনাল্ড ট্রাম্পও। তাঁকে একজন প্রতারক হিসেবেও উল্লেখ করেছেন সােরস। নিজের স্বার্থ দেখতে গিয়ে ট্রাম্প দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিতেও ইতস্তত করেন না বলেও অভিযােগ সােরসের । শুধু তাই নয় , ভােটে জেতার জন্য ট্রাম্প যা খুশি করতে পারেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি । পরিবেশের বিপন্নতা এবং বিশ্বজুড়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তা নিয়েও মুখ খােলেন সােরস। তাঁর দাবি , এটা অতিশয়ােক্তি হবে না , ২০২০ এবং আগামী বছরগুলাে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডােনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং – এর ভবিষ্যই শুধু নির্ধারণ করবে না , সঙ্গে গােটা বিশ্বেরও ভবিষ্যৎ নির্ধারিত করবে।