আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত সংখ্যার চেয়ে বাস্তবে নিহত রোহিঙ্গার সংখ্যা অনেক বেশি, এমন আশংকা জানিয়ে এ কথা বলেন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত এই দুই কর্মকর্তা। খবর রয়টার্সের।
বাংলাদেশে সক্রিয় জাতিসংঘের দুটি পৃথক সংস্থায় কর্মরত এ দুজন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অপ্রকাশিত সঙ্কট কতটা ভয়াবহ তা বাইরের দুনিয়া পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারছে না জানিয়েও উদ্বেগ জানান।
রাখাইন রাজ্যে গত অক্টোবর ৮ অক্টোবর থেকে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নাম করে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যা-গণধর্ষণ-গণগ্রেফতার চালাচ্ছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো। এ পরিস্থিতিতে নিপীড়ন থেকে বাঁচতে প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
জাতিসংঘের দুই কর্মকর্তা পৃথক সাক্ষাৎকারে রয়টার্সকে জানান, তাদের সংস্থা দুটি গত চারমাসে শরণার্থীদের যে জবানবন্দী নিয়েছে তাতে তারা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে নিহত রোহিঙ্গার সংখ্যা এক হাজার পেরিয়ে গেছে।
এদিকে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জাউ হতাই বলেছেন, গত অক্টোবরে সীমান্ত রক্ষী পুলিশের ফাঁড়িতে হামলাকারী ‘সশস্ত্র রোহিঙ্গাদের’ বিরুদ্ধে অভিযানকালে এক জনেরও কম মানুষ নিহত হয়েছে বলে সেনা কমান্ডারদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
নিহতের সংখ্যা এক হাজারেরও বেশি বলে জাতিসংঘের দুই কর্মকর্তা যে দাবি করেছেন তার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এই সংখ্যা আমাদের সংখ্যার চেয়ে অনেক অনেক বেশি। আমরা সরেজমিনে এটি খতিয়ে দেখব।
গত শুক্রবার জাতিসংঘ সাক্ষাৎকার ভিত্তিক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে পালিয়ে আসা ব্যক্তিদের বরাতে কয়েক শ’ রোহিঙ্গা ‘র নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
মিয়ানমারের পরিকিল্পত সন্ত্রাসী নীতির কারণে রোহিঙ্গারা নিহত হয়েছে জানিয়ে এ ঘটনায় জাতিগত নিধনের অভিযোগ উঠতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন প্রদেশে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান মানবেতর জীবনযাপন করছে।
বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে সংখ্যালঘু এ মুসলিম জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ থেকে আগত ‘অবৈধ অভিবাসী’ অপবাদ দিয়ে তাদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার সরকার।
গত শুক্রবার প্রকাশিত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের এক (ওএইচসিএইচআর) প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত সরকারি বর্বরতার  কথা তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের বরাতে বলা হয়েছে, রাখাইনে মিয়ানমারের বিভিন্ন বাহিনী কয়েক শ’ রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে। এখনও সেখানে নির্বিচারে নারী-পুরুষ ও শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে। চলছে ধর্ষণ ও বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা।
মিয়ানমারের পরিকিল্পত সন্ত্রাসী নীতির কারণে রোহিঙ্গারা নিহত হয়েছে জানিয়ে এ ঘটনায় জাতিগত নিধনের অভিযোগ উঠতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।