টিডিএন বাংলা ডেস্ক : মিয়ানমারে রাতারাতি গণতন্ত্রের উত্তরণ ঘটবে এমন প্রত্যাশা কেউ না করলেও, ধারণা করা হয়েছিল দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। কিন্তু এমনটি হয়নি। বরং সেখানে রোহিঙ্গাসহ অন্য সংখ্যালঘুদের হত্যা, নির্যাতন ও ‘চলমান মানবিক সংকট’ আরও ‘বাজে’ দিকে মোড় নিচ্ছে।

মিয়ানমার থেকে ঘুরে এসে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লি গত সোমবার এ কথা জানিয়েছেন। মিয়ানমারের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হওয়ার জন্য দেশটির কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তিনি।

জেনেভাভিত্তিক জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল মিয়ানমারের পরিস্থিতি, বিশেষ করে মানবাধিকার পরিস্থিতির কী অবস্থা, তা পর্যালোচনা করে দেখতে বিশেষ দূত ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ করে। মিয়ানমার সরকারের আমন্ত্রণেই সেখানে যান ইয়াংহি লি। ২১ জুলাই শেষ হয় তাঁর সফর। দেশটিতে তাঁর ১২ দিনের সফর শেষে তিনি দিয়েছেন, উদ্বেগের সুনির্দিষ্ট একটি তালিকা। লি বলেন, আগের জান্তা সরকারের কৌশল এখনো মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক সরকারে প্রয়োগ হওয়া দেখে ‘হতাশ’ হয়েছেন তিনি।

ইয়াংহি লি বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছিল, মিয়ানমারে রাতারাতি গণতন্ত্রে উত্তরণ হবে এমন প্রত্যাশা না করতে—কারণ এ জন্য সময় দরকার। ঠিক একইভাবে মিয়ানমারেরও প্রত্যাশা করা উচিত হবে না, দেশটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা রাতারাতি বন্ধ হয়ে যাবে। এমনটা হবে না, যতক্ষণ না সেখানে মানবাধিকার নিয়ে সত্যিকারের ও দৃষ্টিগ্রাহ্য অগ্রগতি হবে।’

রোহিঙ্গা জনগণের পরিস্থিতি নিয়ে লি উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বাড়ানো কেবল ‘রাখাইন রাজ্যেই নয় মুসলিম সম্প্রদায়েরও’ করা উচিত। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংঘাতে বিগত ৫ বছরে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বাস্তুহারা রোহিঙ্গাদের অনেকে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। একইভাবে মিয়ানমারের কাচিন রাজ্যে বৌদ্ধ-মুসলিম সংখ্যাতে প্রায় এক লাখ সংখ্যালঘু মুসলিম বাস্তুহারা হয়েছে। এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের শান রাজ্যের মানবাধিকার পরিস্থিতির খবর জেনে হতাশা ব্যক্ত করেন লি।