টিডিএন বাংলা ডেস্ক: কয়েকমাস আগে অসমের জাতীয় নাগরিক পঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা। তাতে ১৯ লাখ নাগরিককে বিদেশি ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত কমিশনের রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। তাতে অভিযোগ করা হয়েছে, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও মুসলিমদের রাষ্ট্রহীন করে তোলাই ছিল অসমে এনআরসি প্রক্রিয়ার আসল লক্ষ্য। একইসঙ্গে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার উদ্বেগের কথাও।

আমেরিকার কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (ইউএসসিআইআরএফ) তাদের রিপোর্টে বলেছে, ‘এনআরসির গোটা মেকানিজমটাই ছিল বাঙালি মুসলিমদের বড় অংশের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে তাঁদের রাষ্ট্রহীন করে তোলা।’ শুক্রবার প্রকাশিত ‘ইস্যু ব্রিফ : ইন্ডিয়া’ শীর্ষক রিপোর্টে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, ‘ভারতে ধর্মাচরণের স্বাধীনতা দিন দিন কমছে। এনআরসি–‌র মাধ্যমে ভারতীয় মুসলিমদের নাগরিকত্ব হননের চেষ্টা তারই বহিঃপ্রকাশ।’ ইউএসসিআইআরএফ–‌এর বিশ্লেষক হ্যারিসন অ্যাকিন্স–‌এর অভিযোগ, ‘এনআরসি নিয়ে বিজেপি সরকারের পদক্ষেপেই প্রমাণ মিলেছে তাদের মুসলিম বিদ্বেষের।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘বিজেপি চাইছেই ভারতে মুসলিমদের নাগরিকত্ব হনন করতে। হিন্দু বা অন্যান্য সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব অধিকার রক্ষায় সুরক্ষাকবচ পেলেও মুসলিমরা রাষ্ট্রীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত। বরং তাদের আরও বেশি রাষ্ট্রহীন করাটাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি।’ তবে মার্কিন সংস্থার এই অভিযোগ অবশ্য মানতে নারাজ বিজেপি। তাদের দাবি, সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তালিকা তৈরি হয়েছে। বহু হিন্দুর নামও বাদ গিয়েছে তালিকা থেকে। তাই এধরনের অভিযোগ ঠিক নয় বলে অসমের বিজেপি নেতারা মনে করেন।কিন্তু এনআরসি প্রক্রিয়ায় কোথাও ধর্ম বা ভাষার উল্লেখ নেই। তাই বাদ পড়াদের মধ্যে হিন্দু বেশি এমন তথ্য কোথা থেকে রটানো হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্যই সঙ্ঘ পরিবার থেকে এধরনের গুজব বাজারে রটানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

উল্লেখ্য, অসমে এনআরসি তালিকা প্রকাশের দেড় মাস পরেও সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে এখনও এনআরসি–‌ছুটদের জানানো হয়নি তাঁদের নাম বাদ পড়ার কারণও। লিখিতভাবে সেই চিঠি পাওয়ার দিন থেকে ১২০ দিনের মধ্যে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হবে এনআরসি–‌ছুটদের। তাই এখনও নাম বাদ পড়ার কারণ জানতে না পেরে অনেকেই উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।‌