টিডিএন বাংলা ডেস্ক: কর্তারপুর জট কাটাতে রবিবার ওয়াঘা সীমান্তে বৈঠকে বসে ভারত ও পাকিস্তান। সেখানেই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয় ভারতীয় সমস্ত তীর্থযাত্রীদের জন্য ভিসা-ফ্রি করার কথা। প্রতিবেশি রাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তে খুশি ভারত। এদিনের ভারত-পাকিস্তানের আলোচনায় তীর্থযাত্রীদের সুরক্ষাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বৈঠকের পরে পাকিস্তানের তরফে জানানো হয়েছে যে, ভারতের ৮০ শতাংশ দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মহম্মদ ফইজল জানিয়েছেন, আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে। ভবিষ্যৎ-এ একাধিক বৈঠকে যেটুকু জটিলতা রয়েছে, তার সমাধান করা হবে।

ওয়াঘা সীমান্তে এদিন সকাল সাড়ে নটা নাগাদ এই বৈঠক শুরু হয়েছে। যে তীর্থযাত্রীদের ভিসা-ফ্রি করা হবে। এদিন দুই দফায় বৈঠক চলে। দ্বিতীয় দফার আলোচনা ১০.২০ নাগাদ শুরু হয়। ভারতের তরফ থেকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব (আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা) এসসিএল দাস, বিদেশ মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব (পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ইরান) দীপক মিত্তল।

আলোচনা শেষে এসসিএল দাস জানিয়েছেন, পলিজমা খাঁড়ি প্লাবিত হলে যাতে তীর্থযাত্রীরা যাতে সমস্যায় না পড়েন তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। ভারতের তরফে যে সেতু বানানো হচ্ছে তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ যেমন দিল্লি পাকিস্তানকে দিয়েছে, তেমনই ইসলামাবাদকেও তাদের দিকে সেতু তৈরি করতে বলা হয়েছে।

ভারতের তরফে পাকিস্তানকে বলা হয়েছে, কর্তারপুর সাহিব গুরুদ্বারে প্রতিদিন যে ৫০০০ জন তীর্থযাত্রীকে ভারত থেকে যেতে অনুমতি দেওয়া হবে তাঁদের উচ্চস্তরের নিরাপত্তা দিতে হবে। আগামী নভেম্বরে গুরু নানকের ৫৫০ তম জন্মদিবসেই কর্তারপুর করিডোর খুলে দিতে চাইছে ভারত। সে ব্যপারেও ইসলামাবাদকে অবগত করে দিল্লি বলেছে বিশেষ অনুষ্ঠানে ১০০০০ তীর্থযাত্রীকে কর্তারপুর যেতে অনুমতি দিতে হবে।

সূত্রের খবর, কর্তারপুর করিডোর নিয়ে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে ভারতকে সহযোগিতার বার্তা দিয়েছে পাকিস্তান। বৈঠকে দিল্লির তরফে যে দাবিগুলি ইসলামাবাদের প্রতিনিধিদের কাছে পেশ করা হয়েছিল, তার অনেকগুলি মান্যতা পেয়েছে বলে বিদেশমন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে।

এদিনের বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ দমন নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ভারতের তরফে দাবি করা হয় যে, খালিস্তানপন্থী সংগঠন এসএফজে পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয়ভাবে ভারত বিরোধী কাজ করে চলেছে। অবিলম্বে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পাকিস্তানকে বলা হয়েছে।

এদিনের বৈঠকে পাকিস্তানের প্রতিনিধি দলে এক গোপাল সিং চাওলা নামে এক খালিস্তানপন্থী নেতা ছিলেন। ভারতের আপত্তিতে তাঁকে দ্রুত সরিয়ে দেয় পাকিস্তান। কর্তারপুরে জঙ্গি হামলা মোকাবিলা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে ভারত-বিরোধী কার্যকলাপ না হওয়ার আশ্বাস দেয় পাক প্রতিনিধি দল।

রবিবার বিদেশমন্ত্রক তরফে এক বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, সেতু তৈরি না হওয়া পর্যন্ত পুণ্যার্থীদের যাতায়াতের সব ধরনের ব্যবস্থা করবে ভারতই। গুরু নানকের ৫৫০ তম বার্ষিকী উপলক্ষে এই কর্তারপুর করিডোরের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার আলোচনা হয়। প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার পুণ্যার্থী কর্তারপুর যাত্রা করেন। ভারতীয় পাসপোর্ট রয়েছে এমন পুণ্যার্থীদের ভিসা ফ্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। তবে এদিন ১৯৭৪ প্রোটোকলের আওতায় ১০ হাজার ভারতীয় পুণ্যার্থীকে পাকিস্তানে পাঠানোর আর্জি জানানো হয়।

উল্লেখ্য, গত বছর নভেম্বর মাসে উপরাষ্ট্রপতি ভেঙ্কাইয়া নাইডু ও পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং গুরুদাসপুরে কর্তারপুর করিডোরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন৷ পাকিস্তানেও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তাদের তরফে ভিত্তিপ্রস্থার স্থাপন করেন। পরে ২০১৯ সালে দ্বিতীয়বারের জন্য। নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় এলে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। আটারি-ওয়াগা সীমান্তে ১৪ মার্চ দু’দেশ প্রথম দফার বৈঠক সারে। কর্তারপুর করিডর নিয়ে লিখিত খসড়া চুক্তি তৈরি হয়৷