ছবি- ইন্টেরনেট

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: জৈশ-এ-মহম্মদ নেতা মাসুদ আজহারকে রাষ্ট্রসঙ্ঘ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীদের তালিকাভুক্ত করায় তাঁর সম্পত্তি, ভ্রমণ ও অস্ত্রে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। ইসলামিক স্টেট ও আল কায়েদা সংক্রান্ত রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিষেধাজ্ঞা কমিটি সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারত ২০০৯ থেকে এই দাবি জানিয়ে এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের উদ্যোগে নতুন করে প্রস্তাব আনা হয়েছিল। চীন সেই প্রস্তাবে সম্মত হবার পরে নিরাপত্তা পরিষদ আল কায়েদা ও আইসিস সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আজহারের নাম যুক্ত করেছে। ভারতের তরফে এই পদক্ষেপকে ‘গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক জয়’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। আজহারকে নিষেধাজ্ঞার কবলে আনার প্রস্তাবে কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আক্রমণের কোনও উল্লেখ নেই।

পাঠানকোটে হামলারও কোনো উল্লেখ করা হয়নি। আল কায়েদা, ওসামা বিন লাদেন, তালিবানের সঙ্গে সম্পর্কের উল্লেখ রয়েছে। পশ্চিমী শক্তির বিরুদ্ধে আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবাদী সংগ্রহ করার অভিযোগও রয়েছে। জৈশ-এ-মহম্মদ ইতিমধ্যেই নিষেধাজ্ঞা তালিকায় ছিল। রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রস্তাবে সেই উল্লেখ রয়েছে। পাকিস্তানের তরফে দাবি করা হয়েছে, আজহারকে তালিকাভুক্ত করার ব্যাপারে তারাও একমত হয়েছে ‘সমস্ত রাজনৈতিক উল্লেখ’ প্রস্তাব থেকে বাদ যাবার পরে। পুলওয়ামারও কোনো উল্লেখ সেই কারণে নেই। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, পাকিস্তান নজর ঘোরাতে এমন দাবি করছে। কোনও নির্দিষ্ট ঘটনার ভিত্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা হয়নি।

একাধিক সন্ত্রাসবাদী ঘটনায় আজহারের যোগাযোগের কথা ভারত রাষ্ট্রসঙ্ঘের সংশ্লিষ্ট কমিটিকে জানিয়েছিল। সাধারণ ভাবে সন্ত্রাসবাদী তৎপরতার পরিপ্রেক্ষিতেই এই নিষেধাজ্ঞা। চীন এক সময়ে প্রস্তাবকে ‘বিধি অনুযায়ী’ খতিয়ে দেখার জন্য প্রস্তাব স্থগিত রাখতে বলেছিল। বুধবার চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত কয়েকদিনে তাদের কাছে সংশোধিত অনুরোধ জমা পড়ে। ‘সংশোধিত তথ্যের ভিত্তিতে’ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে কথা বলে তারা প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে। এই ‘সংশোধিত’ প্রস্তাব কী, তা চীনের বিদেশ মন্ত্রক ব্যাখ্যা করেনি। ২০০৯-র পরে ২০১৬-তে ভারত আজহারকে কালো তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাব এনেছিল। ২০১৭সালে আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স ফের প্রস্তাব আনে। বস্তুত ভারতের তরফে যে দাবিই করা হোক, মার্কিন প্রশাসন রাষ্ট্রসঙ্ঘের এই পদক্ষেপকে ‘মার্কিন কূটনীতির জয়’ বলে অভিহিত করেছে। মার্কিন বিদেশ সচিব মাইক পম্পিও বলেছেন, মার্কিন কূটনীতিক দলকে অভিনন্দন। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সিদ্ধান্ত আলোচনার মাধ্যমে তারা করাতে পেরেছে।

মার্কিন কূটনীতির জয় হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তির পথে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিজেপি অবশ্য বুধবার থেকেই রাষ্ট্রসঙ্ঘের সিদ্ধান্তকে তাদের জয় বলে দাবি করতে উঠেপড়ে লেগেছে। অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নির্মলা সীতারামন কার্যত মোদী সরকারই এই সিদ্ধান্ত করিয়েছে বলে দাবি করতে থাকেন। বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের তরফে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পরে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোনও একটি সরকারের সাফল্য বলে একে চিহ্নিত করা অন্যায়। কংগ্রেসের তরফে আরো বলা হয়েছে, এর আগে কংগ্রেস সরকারের আমলে হাফিজ সৈয়দ, জাইকুর রহমান লাখভিকে নিষেধাজ্ঞার কবলে আনা গিয়েছিল। কংগ্রেস মুখপাত্র রাজীব শুক্লা বলেছেন, পুলওয়ামার উল্লেখ নেই কেন বরং সেই প্রশ্নের উত্তর দিক সরকার। পাকিস্তান পুলওয়ামার প্রশ্ন এড়িয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানকে কড়া জবাব দেওয়া উচিত। সূত্র: গণশক্তি