টিডিএন বাংলা ডেস্ক : রোহিঙ্গা মুসলিমদের একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা মিয়ানমারের নেত্রী সু চিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।

অজ্ঞাত স্থান থেকে ভিডিও কলের মাধ্যমে গত শুক্রবার প্রথমবারের মতো সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন আতা উল্লাহ নামের ওই বিদ্রোহী নেতা। বিশ্লেষক ও স্থানীয় মানুষেরা তাঁকে রোহিঙ্গাদের একটি সশস্ত্র সংগঠনের প্রধান হিসেবে বলে থাকেন। আতা উল্লাহ বলেন, তাঁর সংগঠন শুধু রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ের জন্যই লড়াই করছে।
আতা উল্লাহ বলেন, ‘আমরা যদি অধিকার না পাই, ১০-১৫ লাখ বা সব রোহিঙ্গাকে যদি মরে যেতে হয়, তাহলে তা-ই হবে। আমরা আমাদের অধিকার আদায় করে নেব। আমরা নিষ্ঠুর সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।’
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সংখ্যালঘু ধর্মীয় জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের ওপর গত বছরের অক্টোবর থেকে ব্যাপক দমন-নিপীড়ন চালায়। রোহিঙ্গা–অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে সন্ত্রাসীরা ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে নয় পুলিশ সদস্যকে হত্যা করার পর কথিত ওই সন্ত্রাস দমন অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।
বিদ্রোহী রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর নেতা আতা উল্লাহর বক্তব্যের জবাবে সু চির মুখপাত্র জো তে বলেছেন, ‘কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। যদি তারা আমাদের সহিংসভাবে আক্রমণ করে, তবে আমরা সেভাবেই প্রত্যুত্তর দেব। বিশ্বের কোথাও সহিংসতাকে সহ্য করা হয় না।’ এর আগের ভিডিও বার্তাগুলোতে আতা উল্লাহ ‘জিহাদের’ ডাক দিয়েছেন উল্লেখ করে জো তে বলেন, এ দলটি মধ্যপ্রাচ্যের সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গে যুক্ত।
এদিকে ক্ষমতায় যাওয়ার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি বলেছেন, তাঁর সরকারের আমলে উন্নয়ন ও সংস্কারের গতি প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। জনগণ যদি তাঁর কাজে সন্তুষ্ট না থাকে, তবে প্রয়োজনে তিনি পদত্যাগ করবেন।
সু চি বলেন, ‘প্রথম থেকেই বলছি, আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তবে জনগণ যদি মনে করে যে আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা যথেষ্ট নয় এবং অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন আমাদের চেয়ে ভালো কাজ করতে পারবে, তবে আমরা সরে যেতে প্রস্তুত আছি।’ (রয়টার্স)