টিডিএন বাংলা ডেস্ক : তালেবানসহ আফগানিস্তানের সরকারবিরোধীদের নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে রাশিয়া। মঙ্গলবার মস্কোতে এ আলোচনা শুরুর কথা রয়েছে। তালেবানের পাশাপাশি আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইও এতে অংশ নিচ্ছেন। তবে রাশিয়ার এ উদ্যোগের সমালোচনা করেছে আফগান সরকার।

আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির প্রধান উপদেষ্টা ফাজেল ফাজলি বলেন, অতীতে আফগানিস্তানের গণতান্ত্রিক রূপান্তরে নেতৃত্ব দেওয়া রাজনীতিবিদরা তালেবান নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে চাইছেন; এটা দুঃখজনক।

টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ক্ষমতা থেকে দূরে থাকার কারণে তারা নিজেদের মূল্যবোধকেও উপেক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছে।

কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের শান্তি আলোচনার ১০ দিনের মাথায় মস্কোতে এ বৈঠকে অংশ নিচ্ছে তালেবান। এর আগে মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠককে ইতিবাচক হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তালেবান। দলটির মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তরিক বলে প্রতীয়মান হয়েছে। ১৭ বছরের সংঘাত বন্ধে আলোচনা সঠিক পথে অগ্রসর হয়েছে। উভয় পক্ষ একটি চুক্তির ব্যাপারে সমঝোতায় উপনীত হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে এবং আমেরিকানরা সততার সঙ্গে তা মেনে চললে আল্লাহ’র রহমতে আমরা আফগানিস্তান থেকে মার্কিন দখলদারিত্ব অবসানের ব্যাপারে আশাবাদী।

এদিকে রাশিয়ার সঙ্গে তালেবানসহ বিরোধী রাজনীতিকদের বৈঠকের সমালোচনা করে আফগান প্রেসিডেন্টের দফতর থেকে বলা হয়েছে, ক্ষমতা লাভের জন্যই এসব করা হচ্ছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান থেকে ৩৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মস্কোয় বৈঠকে অংশ নিচ্ছে। এদের মধ্যে ইতোপূর্বে আফগান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অনেক ব্যক্তিও রয়েছেন।

রাশিয়ায় এ আলোচনার মূল উদ্যোক্তা দেশটিতে বসবাসরত আফগান নাগরিকদের সংগঠন কাউন্সিল অব আফগান সোসাইটি। তারা বলছে, আফগানিস্তানে একটি ‘শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীয় সরকার’ গড়ে তুলতেই এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পর রাশিয়ার সঙ্গে তালেবানের এ আলোচনা দৃশ্যত আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানিকে রীতিমতো হতাশ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হিসাবে, আফগানিস্তানের ৪৬ দশমিক ২ শতাংশ এলাকা তালেবানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে তালেবান এককভাবে ক্ষমতা দখল করতে চায় বলে যে অভিযোগ উঠছে তা নাকচ করে দিয়েছেন দলটির মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। তিনি বলেন, কাবুল সরকার সহযোগিতা করলে কোনও যুদ্ধ বা সংঘাতের প্রয়োজন হবে না।

তালেবান মুখপাত্র দাবি করেন, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হলে ইসলামি শাসন ব্যবস্থা কায়েমের পথ খুলে যাবে।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, আফগান তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। তাছাড়া দেশটিতে আজীবন মার্কিন সামরিক উপস্থিতিও ধরে রাখতে চায় না ট্রাম্প প্রশাসন। তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ছাড়া মার্কিন সেনারা  আফগানিস্তান ছাড়বে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, কাতারে আফগান তালেবানদের সঙ্গে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি ও সেনা প্রত্যাহারের সময় নিয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, অবশ্যই আমরা আফগানিস্তানে স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি চাই না। আমাদের লক্ষ্য হলো দেশটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। শান্তি স্থাপনের পর গঠিত সরকারের সঙ্গে ভবিষ্যত অংশীদারিত্ব চাই। আমরা নিজেদের সুনাম প্রতিষ্ঠা করে আফগানিস্তান ছাড়বো।

আলোচনায় অগ্রগতির উচ্চকিত প্রশংসা করেছেন তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই। তবে সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আফগান তালেবান দেশটির সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনায় বসতে রাজি নয়। কেননা, তালেবান মনে করে, মার্কিন সমর্থিত আফগান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল মাত্র। ফলে মার্কিন অনুমোদন ছাড়া তারা কোনও বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে অপারগ। এমন সরকারের সঙ্গে বৈঠকের বদলে তাই তারা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেই আলোচনায় আগ্রহী।

২০০১ সালে মার্কিন অভিযানে উৎখাত হওয়ার পর সম্প্রতি আফগানিস্তানের প্রায় অর্ধেক ভূখ-ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবানরা। ধারাবাহিক হামলার পাশাপাশি তারা যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার নেতৃত্বে আলোচনায়ও অংশ নিচ্ছে। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের পরবর্তী আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যেই ৫ ফেব্রুয়ারি মস্কোয় রাশিয়ার সঙ্গে দুই দিনের আলোচনায় বসছে তালেবান।