টিডিএন বাংলা ডেস্ক : ছয় বছরের কম বয়সী সিরিয়ার ৩০ লাখ শিশু যুদ্ধ ছাড়া কিছুই চেনে না বলে জানিয়েছে শিশু অধিকারবিষয়ক বেসরকারি সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’।

দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের বিভীষিকায় সিরিয়ার লাখ লাখ শিশু ‘টক্সিক স্ট্রেস’ নামে এক ধরনের মানসিক রোগে ভুগতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সাধারণত অনেক দিন ধরে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে থাকলে এই রোগে আক্রান্ত হয় শিশুরা।
সিরিয়ার ৪৫০ জনের বেশি নাগরিকের ওপর একটি জরিপ চালায় সংস্থাটি। জরিপের ওপর ভিত্তি করে তৈরি প্রতিবেদনে বলা হয়, শিগগিরই পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ‘টক্সিক স্ট্রেস’-এ আক্রান্ত হয়ে একটি প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে আরো বলা হয়, যুদ্ধের প্রভাবে সিরিয়ার শিশুদের মধ্যে বিছানায় মূত্রত্যাগ, আত্মহত্যা ও আক্রমণাত্মক হওয়ার প্রবণতা বেড়ে গেছে।
আলেকজান্দ্রা চেন নামের যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিশেষজ্ঞ জানান, টক্সিক স্ট্রেস নামক ওই রোগটি মস্তিষ্ক ও দেহের অন্যান্য অঙ্গের বিকাশ ব্যাহত করে। এ ছাড়া মানসিক ভারসাম্যহীনতার ঝুঁকি তৈরি করে।
সিরিয়ার বেশির ভাগ শিশু মানসিক চাপে আক্রান্ত বলে জানিয়েছে দেশটির অধিকাংশ নাগরিক। পরিবারের কোনো সদস্যকে হারানো, বোমা হামলায় বাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়া ও যুদ্ধের মধ্যে পড়ে আহত হওয়ার মতো বিভিন্ন কারণে দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ শিশুই মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে।
বিবিসির খবর অনুযায়ী সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, যুদ্ধে সিরিয়ার শতকরা ৪৮টি শিশু বাকশক্তি হারিয়েছে অথবা বাক সমস্যায় ভুগছে। এ ছাড়া শিশুরা সব সময় মনমরা হয়ে থাকে। প্রায় ৩০ লাখ শিশু, যাদের বয়স ছয় বছরের কম, তারা যুদ্ধ ছাড়া কিছুই চেনে না।
সিরিয়ায় যুদ্ধ শুরু হয় ২০১১ সালে। ছয় বছরে যুদ্ধে নিহত হয়েছে দেশটির তিন লাখ মানুষ। প্রায় ২৪ লাখ শিশু সপরিবারে সিরিয়া ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছে।