টিডিএন বাংলা ডেস্ক: ফের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মিরপুরের বস্তিতে। অগ্নিকাণ্ডের জেরে কমপক্ষে আড়াই হাজার ঘর পুড়ে ছাড়খাড় হয়েগেছে বলে খবর। শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছে মিরপুর ৭ নম্বর সেকশনের চলন্তিকা মোড়ের একটি বস্তিতে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ঐ বস্তির অন্তত আড়াই হাজার ঘর পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুই-এক জনের মৃত্যুর খবর চাউর হলেও নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে হাবিব (২২), রফিক (৪২) ও কবির (২৫) নামের তিনজন আহত হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্র নিশ্চিত করেছে। ঘটনাস্থলে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. তরুন কান্তি সিকদার ও ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক (অপারেশন) দিলীপ কুমার জানিয়েছেন তাদের কাছে কোনো হতাহতের তথ্য নেই। তবে আগুন লাগার সময় হুড়োহুড়িতে দুই জন আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, গতকাল রাত ১০টা ২২ মিনিটের দিকে মিরপুর ৭ নম্বরে সেকশনের চলন্তিকা মোড়ের ঐ বস্তির একটি ঘরে আগুন ধরে। তখন বস্তির বাসিন্দারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আগুন দ্রুত ছড়িয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর ঐ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাসাবাড়ির সব মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। এ পরিস্থিতিতে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভানোর জন্য কাজ শুরু করে। বাতাসের কারণে আগুন এতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ফায়ার সার্ভিসের ধারাবাহিকভাবে আরো ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। ফায়ার সার্ভিসের ২৪টি ইউনিট একযোগে চেষ্টা চালিয়ে রাত ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে রাত ১২টা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পুরো নির্বাপণ সম্ভব হয়নি।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লে. কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নির্বাপণের জন্য ফায়ার সার্ভিসের রির্জাভ পানি দ্রুত শেষ হয়ে পড়েছিল। আর আশপাশের পানির সোর্স না থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে। আশপাশে সুবিধা মতো পানি না পেয়ে বিকল্প ব্যবস্থা হাতে নিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। পাশের বহুতল ভবনের রিজার্ভ ট্যাংকিতে পানির পাইপ লাগিয়ে মেশিনের মাধ্যমে ঘটনাস্থলে আনার চেষ্টা করছেন। তবে রাত সাড়ে ১১টার মধ্যে আগুন প্রায় ৮০ ভাগ নির্বাপণ হয়েছে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। দ্রুতই বাকিটুকু নির্বাপণ করা সম্ভব হবে। তিনি আরো বলেন, পুলিশ বাহিনী, ওয়াসা ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা সম্ভব হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. তরুণ কান্তি সিকদার বলেন, আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতি নির্ণয়ের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তিন দিনের মধ্যে কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করবে। হতাহতের ব্যাপার তিনি বলেন, আপাতত তিন জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের চিকিত্সার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে কেউ নিহত হয়েছেন কিনা সে ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই তাদের কাছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোশতাক আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা এখন সবাই আগুন নেভানোর কাজে ব্যস্ত। আমাদের কাছে নিখোঁজের কোনো অভিযোগ আসেনি। আগুন পুরো নেভানোর পর আমরা তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে কাজ করব। আপাতত মানুষের জান-মাল রক্ষার কাজ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, এই বস্তিতে অন্তত দুই ব্যক্তির ঘরবাড়ি রয়েছে। প্রত্যেকের অন্তত ১৮ থেকে ২০টি ঘর রয়েছে। ঈদের কারণে বস্তির বেশিরভাগ ভাড়াটিয়া ছিল না। আবুল হোসেন নামে বস্তির এক বাসিন্দা জানান, বস্তির উত্তর পাশে কমো গার্মেন্টসের পেছন দিক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। উত্তর দিকে প্রায় ২ হাজার ৬০০ ঘর রয়েছে। ঐ ঘরগুলো পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। সাকিব নামের এক কিশোর বলেন, ‘আমরা সন্ধ্যার সময় বস্তির পাশে চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলাম। এ সময় বস্তির ভেতর থেকে মানুষের চিত্কার শুনতে পাই। ভেতরে গিয়ে দেখতে পাই পূর্ব দিকে আগুন জ্বলছে। প্রথমে বস্তির বাসিন্দারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আগুন এত দ্রুত ছড়িয়েছে যে, আমরা নেভাতে পারিনি।’

রাহেলা নামের এক জন নারী বলেন, ‘কখন, কোন্ দিক দিয়ে আগুন লেগেছে, তা আমি বুঝতে পারিনি। আমি এক কাপড়ে বের হয়ে এসেছি। কোনো কিছু বলতে পারবো না। আমার ছোটো ছেলেকে খুঁজে পাচ্ছি না। দুই মেয়েকে নিয়ে আমি বের হয়ে এসেছি।’ রেশমা বেগম নামে এক নারী বলেন, ‘সব শেষ হয়ে গেল। দীর্ঘদিনের জমানো টাকা, সাজানো সংসার ছেড়ে খালি হাতে বের হয়ে যাই। আমার জায়গা এখন রাস্তায়।’