টিডিএন বাংলা ডেস্ক: জীবন বাঁচাতে নয়, চাকরি বাঁচাতে বিভিন্ন যানবাহনে ঠাসাঠাসি করে পায়ে হেঁটে ঢাকায় আসতে বাধ্য হয়েছেন ক্ষুব্ধ পোশাকশ্রমিকরা। বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে মানুষকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং হোম কোয়ারেন্টাইনে বাধ্য করতে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনী। সারাদেশে কার্যত স্বেচ্ছায় ঘরবন্দী সবাই। বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। এ অবস্থায় গার্মেন্ট খুলে দেয়ায় চাকরি বাঁচাতে হাজারো পোশাক শ্রমিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে। ফেরিতে মানুষের ভিড়ে তিল ধারণের ঠাই ছিল না। জনস্রোতের সামনে অসহায় ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গত শুক্রবার রাত থেকে গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে কর্মস্থলে ফেরা শ্রমিকের স্রোত দেখা যায়। করোনা ভাইরাস দুর্যোগ উপেক্ষা করে হাজারো পোশাক শ্রমিক গতকাল শনিবারও ফিরেছেন কর্মস্থলে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভ্যানে, ট্রাকে, কাভার্ডভ্যান যে যেভাবে পারছেন কর্মস্থলে ফিরেছেন।
শ্রমিকরা জানিয়েছেন, শনিবার থেকে গার্মেন্টস খোলা। নির্দিষ্ট সময়ে গার্মেন্টেসে পৌঁছাতে না পারলে চাকরি থাকবে না তাদের। বাধ্য হয়ে বিভিন্ন যানবাহন ও পায়ে হেঁটে কর্মস্থলে ফিরছেন তারা। কয়েকজন শ্রমিক জানান, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে কারখানাগুলো ৩ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। ৪ এপ্রিল থেকে কারখানাগুলো খোলা হয়। যদি সঠিক সময়ে কর্মস্থলে না পৌঁছেন তাহলে চাকরিচ্যুতির ঘোষণা দিয়েছে মালিকপক্ষ। এজন্য পায়ে হেঁটে ঢাকার পথে রওনা দিয়েছেন তারা। তারা বলেন, হয়তো কিছুদিনের মধ্যে করোনা আতঙ্ক কেটে যাবে। কিন্তু আমরা চাকরি হারিয়ে ফেললে পরে কীভাবে বাঁচব। সামনে ঈদ, এখন কারখানা কর্তৃপক্ষের কথামতো কাজে যোগদান না করলে যদি চাকরি হারিয়ে ফেলি তাহলে স্ত্রী, সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করতে হবে আমাদের।
দৌলতদিয়া ঘাট সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষ পণ্যবাহী খালি ট্রাক, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মাহেন্দ্রসহ বিভিন্ন ছোট-খাটো যানবাহনে করে এসে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নামছে। দূরপাল্লার পরিবহনসহ অন্যান্য যানবাহন বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ অনেক কষ্ট করে ঘাটে পৌঁছেছে। এদের বেশির ভাগই বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিক। তাঁদের অনেকেই কারখানা খোলার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়েছেন। একই অবস্থা মাওয়া ফেরিঘাটের। এখানে প্রতিটি ফেরিতে শত শত মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। মানা হচ্ছে না সামাজিক দুরত্ব। কয়েকজন পোশাক শ্রমিক জানান, কাল গার্মেন্ট খুলবে তাই ফিরছেন।
আশাদুল ইসলাম নামের এক পোশাক কারখানার কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার আমাদের এক ধরনের বিপদে ফেলে দিচ্ছে। যেখানে সারা দেশে লকডাউন চলছে, সেখানে গার্মেন্টস শ্রমিকদের কাজ করতে বলা হচ্ছে। আগামীকাল (রোববার) থেকে পোশাক কারখানা খোলা। বাধ্য হয়ে খুব সকালে ভ্যান-রিকশা, কখনো অটোরিকশায় করে দুই ঘণ্টার পথ এভাবে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে ঘাটে এসে পৌঁছলাম। এটা কি ঠিক হচ্ছে?’
আফজাল হোসেন নামের এক পোশাক শ্রমিক জানান, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ময়মনসিংহের তারাকান্দা থেকে গতকাল ভোর ৬টায় রওনা হয়েছেন। তিনি গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকার একটি কারখানার শ্রমিক। করোনাভাইরাসের আতঙ্কে কারখানা বন্ধ ঘোষণা হওয়ায় পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যান। গ্রামের বাড়ি যাওয়ার সময় গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ট্রাকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গিয়েছিলেন। ৪ এপ্রিল কারখানা খোলা থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে এবার পিকআপে কর্মস্থলে রওনা হয়েছেন। এবারের যাত্রায়ও গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়তে হয়েছে তাদের। পিকআপটি মহাসড়কে আটকে তাদেরকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়েছে পুলিশ। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গণপরিবহনসহ সবকিছু বন্ধ। অথচ আমাদের কারখানা খোলা। একদিকে করোনার ভয়, অন্যদিকে চাকরি হারানোর ভয়। আসলে আমরা কী করব? কোথায় যাব?।
গতকাল ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জৈনা বাজার থেকে ভবানীপুর পর্যন্ত, নবীনগর থেকে সাভার, হেমায়েতপুর, আমিনবাজার এমনকি রাজধানীর সর্বত্রই ছিল পোশাক শ্রমিদের জনস্রোত। গতকাল কারখানা খোলা থাকায় আতঙ্কের মাঝে ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে ফিরেছেন সাধারণ মানুষ।
মাওনা হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে কারখানা বন্ধ ঘোষণায় অনেকেই বাড়ি গিয়েছিলেন। এখন কারখানা খোলার ঘোষণায় তারা কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। মহাসড়কে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ পিকআপ ও ট্রাকে করে কর্মস্থলে যাচ্ছেন। আমরা হাইওয়ে পুলিশ শ্রমিকদের করোনা আতঙ্ক বুঝিয়ে ঘরে ফেরানোর চেষ্টা করছি। পাশাপাশি মালবাহী যানবাহনে মানুষ বহন করলে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।
এদিকে সাধারণ মানুষের জনস্রোত ফেরাতে সকাল থেকে সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মহাসড়কে কাজ করছে। কিন্তু কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না শ্রমিকদের স্রোত।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ আবার কর্মস্থল অভিমুখে ছুটতে শুরু করেছে। গতকাল সকাল থেকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ও মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ঘাটে পোশাক শ্রমিকসহ মানুষের প্রচুর ভিড় দেখা গেছে। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় যে সামাজিক দূরত্বের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে কেউ তার ধার ধারছে না।
খুলনা থেকে ভোর ছয়টায় রওনা দিয়েছেন ঢাকার এক পোশাক কারখানার শ্রমিক আরিফুর রহমান। তিনি বলেন, কোথাও গাড়ি নেই। সারা রাস্তা ভেঙে ভেঙে প্রায় দশ গুন বেশি টাকা খরচ করে দৌলতদিয়ায় পৌঁছায়। এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আসা যায়?
বাগেরহাট থেকে কর্মস্থল গাজীপুরের পোশাক কারখানায় ফিরছিলেন দুই বোন মোরশিদা আক্তার ও রিক্তা আক্তার। দুই বোন গতকাল সকাল সাতটায় অন্যদের সঙ্গে মাইক্রোবাস ভাড়া করে রওনা করেন। দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট পর্যন্ত পৌঁছতে তাঁদের জনপ্রতি ৮০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, একদিকে গাড়ি নেই, আরেকদিকে করোনার ঝুঁকি, এভাবে কি আসা যায়?
এ রকম আরেকজন একটি ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান। ঝিনাইদহ থেকে তিনি ঢাকা ফিরছেন। তিনি বলেন, রোববার থেকে অফিস খোলা। কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মতে ঢাকায় পৌঁছাতে হবে। উপায় নাই, বাধ্য হয়ে এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রওনা হয়েছি। সবচেয়ে বড় কথা হলো দেশে করোনাভাইরাস নিয়ে আমরা সবাই শঙ্কিত। সেখানে এভাবে ভিড় ঠেলে যাওয়া আমাদের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছি।
দৌলতদিয়ার পাঁচ নম্বর ঘাটে সকালে ভিড়ে থাকা রো রো (বড়) ফেরি আমানত শাহর স্টাফ শহিদুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার রাতে কিছু যাত্রী পারাপার হয়েছিল। গতকাল সকাল থেকে মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করে। বেলা বাড়ার সঙ্গে মানুষের ভিড়ও বাড়তে থাকে। একেকটি বড় ফেরিতে ৩ থেকে ৪ হাজার করে মানুষ পার হয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আবু আবদুল্লাহ জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ছোট-বড় মিলে ১৪টি ফেরি থাকলেও বর্তমানে দুটি বড়, একটি মাঝারি ও দুটি ছোট ফেরি চলাচল করছে। পোশাক কারখানা খুলতে শুরু করায় আজ সকাল (শনিবার) থেকে ছোট গাড়ির পাশাপাশি ঢাকামুখী অনেক মানুষ ছুটতে শুরু করেছেন।
এদিকে গতকাল শনিবার দুপুরে নাটোর থেকে একদল শ্রমিক ট্রাকে করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় ফিরছেন। করোনার এই প্রাদুর্ভাবের সময় একজন থেকে আরেকজন কমপক্ষে ১ মিটার দূরত্ব বজায় রাখার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে নির্দেশনা দেয়া হলেও এসব শ্রমিক গায়ের সাথে গা লাগিয়ে ফিরছেন কর্মস্থলে। তাদের বহন করা ট্রাককে নাটোর সদর উপজেলার এ্যাসিল্যান্ড ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু হাসান আটকিয়ে দিলেও পরে ছেড়ে দেন। আবু হাসান তার ফেসবুকে ট্রাকের উপর গাদাগাদি করে পোশাক শ্রমিকদের ঢাকায় ফেরার ছবি দিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তাতে তিনি লিখেছেন, এরা ঢাকাগামী ট্রাকের যাত্রী। সকলেই বিভিন্ন গার্মেন্টসে কাজ করে। নাটোর সদরের দত্ত পাড়া ব্রিজের পাশে থেকে বেলা ১২.০০ টায় ছবিটি তুলেছি। হামীম গ্রুপের একজন কর্মীর সাথে কথা বলে জানা গেল বেতন নিতে যাচ্ছে। পরে তার মাধ্যমে উক্ত কোম্পানির এডমিন অফিসারকে ফোন করে বললাম এই যুগে বেতন দিতে হলে অনলাইনেও বেতন দেয়া যায়। খামোখা ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছেন যে? তিনি বললেন কোম্পানির সিদ্ধান্ত, আমার কিছু বলার নাই। রিস্কি জার্নি ফর করোনা ভাইরাস। ট্রাকটি ছেড়ে দিলাম। ভাবছি …।
জানা যায়, কারখানা চালু হচ্ছে। এজন্য শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরার তাগাদা দিচ্ছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। হাজির না হলে বেতন কাটা যাবে। কারো কারো মালিক চাকরিচ্যুতিরও হুমকি দিয়েছেন। সে কারণে করোনার ভয় নিয়েই কষ্ট করে ঢাকায় ফিরছেন তারা। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ট্রাক বা মালবাহী যেকোনো গাড়িতে করে ঢাকায় ফিরছেন তারা। অনেকে আবার ভেঙ্গে ভেঙ্গে অর্থাৎ একই গাড়িতে না এসে কিছু দূর এক গাড়িতে এসে, তারপর আরেক গাড়িতে-এভাবে ঢাকায় পৌঁছছেন। অনেকে আবার পায়ে হেঁটে বা রিক্সা ভ্যানে করেও ফিরছেন কর্মস্থলে।
পোশাক কারখানায় কর্মরত এক শ্রমিক জানান, একটি টি-শার্ট তৈরি করতে ২৫-৩০ জন শ্রমিকের হাতের ছোঁয়া লাগে। একজন ভাইরাসে আক্রান্ত হলে এদের সবাই আক্রান্ত হবেন। এরপর আশপাশের লোকেরাও আক্রান্ত হবে। পোশাক কারখানায় এখন অবশ্যই ছুটি থাকা উচিত। কিন্তু, তা তো হচ্ছে না। আমাদের কর্মস্থলে যোগ দিতে তাড়া দেয়া হচ্ছে।
এদিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের লৌহজংয়ের মেদিনী মন্ডলে ডলফিন ট্রেনিং সেন্টারের পাশে সেনাবাহিনীর একটি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এ চেকপোস্টে কোনো গাড়ি আসলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তা উল্টোদিকে ফিরিয়ে দিচ্ছে। তাই মহাসড়কে ঢাকায় যেতে না পেরে যানবহনগুলো লৌহজং-টঙ্গবাড়ী-মুন্সীগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকায় যাচ্ছে। তবে ভেতরের এ সড়কগুলোতে পুলিশ বা ট্রাফিকের কোনো প্রকার বাধা ছাড়ায় যানবাহনে ঠাসাঠাসি করে যাত্রীরা ঢাকায় যাচ্ছে। আর এতে করোনাভাইরাস সংক্রামিত হবার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। সরকার সচেতনতার কথা বললেও এদের কারণেই হয়তো সরকারের প্রচেষ্টা ভেস্তে গিয়ে করোনা মহামারি আকার ধারণ করে লোকজনের যানমালের ক্ষতি করতে পারে বলে সচেতন মহল মনে করছে।
শিমুলিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সিরাজুল কবির ও মাওয়া ট্রাফিক পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন জানান, সকাল থেকেই মাওয়া ঘাটে ঢাকামুখি যাত্রীদের ভিড়। ফেরীতে কোন যান বাহন না থাকলেও যাত্রীদের কোন কমতি নেই। গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় তারা বিভিন্ন উপায় ঢাকায় যাচ্ছেন যাত্রীরা। ছোট ছোট ট্রলার যোগেও যাত্রীদের আসতে দেখা গেছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতারা গার্মেন্টস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত মালিকদের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন। দেশে প্রায় ১১শ’ কারখানায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্ডার বাতিল হয়েছে। তারা বলছেন, কারখানা খোলা রাখা বা বন্ধের বিষয়ে সরকারের বাধ্যবাধকতা নেই। কারখানাগুলোতে বিদেশী ক্রেতাদের ক্রয়াদেশে পোশাক তৈরি হচ্ছে। কিছু কারখানায় স্বাস্থ্যকর্মীদের পার্সোনাল প্রোটেক্টিভ ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই) ও মাস্ক তৈরির অর্ডার পাওয়া গেছে। এই অর্ডার হাতছাড়া হলে বড় বিপর্যয় তৈরি হবে এই সেক্টরে।
বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক জানান, আমরা ৪ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছিলাম। এর পর থেকে কারখানাগুলো চালু হবে। কারখানা পরিচালনা করার জন্য অবশ্যই করোনা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের রক্ষা করার জন্য সব স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকের সব দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মালিকের থাকবে। কারখানা চালু রাখা বা বন্ধ রাখা যেকোনো অবস্থাতেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মার্চ মাসের বেতন যথাসময়ে পরিশোধ করতে হবে।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, কেউ চাইলে কারখানা খোলা রাখতে পারবেন। পিপিই ও মাস্ক বানাতে কারখানাগুলো খোলা থাকবে। পাশাপাশি খোলা রাখা কারখানাগুলোতে শ্রমিকের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
বিকেএমইএর সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান বলেন, শনিবারের পর থেকে কেউ কারখানা পরিচালনা করবেন কি না তা একান্তই তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কারখানা পরিচালনা করার জন্য অবশ্যই করোনা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের রক্ষা করার জন্য সব স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি নিশ্চিত করতে হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের তৈরি পোশাক কারখানা খোলা রাখা যাবে। করোনার এই প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাপী নতুন পণ্যর চাহিদা তৈরি হয়েছে। সেই চাহিদা অনুসারে নতুন পণ্য তৈরি করে রফতানি করতে হবে। বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন সুযোগ আসছে। এসব সুবিধা যেন ব্যবসায়ীরা কাজে লাগান। তবে কাজ করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
এ বিষয়ে পোশাক শ্রমিকদের ১১টি সংগঠনের জোট গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সমন্বয়কারী মাহবুবুর রহমান ইসমাঈল বলেন, আমরা বার বার বলে এসেছি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে আপাতত কারখানা বন্ধ রাখার জন্য। কিন্তু নানা অজুহাতে সারাদেশে অচলাবস্থার মধ্যেও মালিকপক্ষের অনেকেই কারখানা চালু রেখেছেন।
এদিকে সারা দেশের ন্যায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে আঞ্চলিক গনপরিবহন বন্ধ রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। এরি মধ্যে খোলা ট্রাক-পিকআপ, সিএনজি, অটোরিক্সাযোগে কর্মমূখী মানুষ ছুঁটছে ঢাকার দিকে। যাত্রা রোধে কিছু-কিছু পয়েন্টে ভ্রাম্যমান আদালতে সাজাও দেয়া হয়েছে অনেক পরিবহন মালিক-শ্রমিককে। দৈনিক সংগ্রাম