টিডিএন বাংলা ডেস্ক : ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া তুলে দেয়ার দাবি জানালেন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন। বৃহস্পতিবার অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভারত-বাংলাদেশের পেট্রাপোল ও বেনাপোলের মধ্যে নোম্যানসল্যান্ডে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেয়ার সময় তিনি ওই দাবি জানান।

শেখ আফিল উদ্দিন বলেন, ‘কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে আমরা মানুষকে আটকে রাখি এবং তা রাখা সম্ভব। কিন্তু ওই বাংলার যে গাছ তার শিকড়কে আমরা আটকাতে পারি না। আটকানো যায় না কোনো পশু বা পাখিকে, তাদেরকে আমরা আটকাতে পারি না। সমস্ত বেড়াজাল ছিন্ন করে তারা নির্বিঘ্নে যাতায়াত করছে।’

শেখ আফিল উদ্দিন এমপি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের উদ্দেশ্যে আমার একটিমাত্র চাওয়া, একটি মাত্র দাবি যেমন পাখিকে আপনারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, কোনো গাছকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। কিন্তু বাংলার মানুষদের আপনারা কেন নিয়ন্ত্রণ করছেন শুধুমাত্র কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে? এই প্রশ্ন আমি রেখে গেলাম। আমি দুই দেশের সরকার প্রধানদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই আগামীতে আমরা বাংলা ভাষার মানুষ শুধুমাত্র একটি কার্ড নিয়ে, কোনো ভিসা ছাড়া, কোনো চেকিং ছাড়া এপার বাংলার মানুষ যেন ওপার বাংলায় যেতে পারে এবং ওপার বাংলার মানুষ যাতে এপার বাংলায় আসতে পারে। আমি দেখেছি এপার বাংলার বহু মানুষ আছেন যারা বাংলাদেশে একবার আসার জন্য তাদের প্রাণটা ব্যাকুল হয়ে যায়। কিন্তু তারা আসতে পারে না এই কাঁটাতারের বেড়ার জন্য। আমি দেখেছি এপার বাংলার বহু মানুষ তারা একটিবারের জন্য ভারতে আসতে চায় কিন্তু তারা ওই কাঁটাতারের বেড়ার জন্য আসতে পারে না। সেজন্য আমি এই কাঁটাতারের বেড়া উঠানোর জন্য জোরালো দাবি করছি আজকের এই একুশে ফেব্রুয়ারির দিনে।’

তিনি বলেন, ‘ভিসা ছাড়া, পাসপোর্ট ছাড়া শুধুমাত্র আইডি কার্ড দিয়েই মানুষজন যাতে সহজে যাতায়াত করতে পারে তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আশা করি ভারত সরকার ও বাংলাদেশের সরকার করবে। এই নোম্যানসল্যান্ডে আমাদেরকে আটকিয়ে রেখেছে আমরা অনেক কষ্টে রয়েছি, আমরা ওই বাঁশের বেড়া ভেদ করতে পারিনি। আমরা আমাদের ভাষার জন্য শহীদ হয়েছি কিন্তু একটিমাত্র বাঁশ আমাদের ভাষাকে আদানপ্রদান করতে বাধাগ্রস্ত করছে। সেজন্য আমি আবারও দুই দেশের সরকারকে আজকে এই নোম্যানসল্যান্ডে দাঁড়িয়ে আমি জোরালো কণ্ঠে বলতে চাই আমাদের এই কাঁটাতারে বেড়া, বাঁশের বেড়া উঠিয়ে দিয়ে আমাদেরকে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করার সুযোগ দেয়া হোক।’
ওই অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক তাঁর ভাষণে বলেন, ‘দু’দেশের মধ্যে যদি কাঁটাতার না থাকে তাহলে আমরা একে অপরের পরিপূরক হয়ে যেতে পারি। তবে আমি একথা বলতে পারি যে, তখন হয়তো আমরা কেউ থাকব না, আজ থেকে একশ বছর পরে হলেও কাঁটাতার থাকবে না। কাঁটাতার চলে যাবে। আমরা তখন এক হয়ে যাবো।’

জ্যোতিপ্রিয় বাবু বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওপার বাংলার মানুষদের জন্য মঙ্গল কামনা করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। উপস্থিত বাংলাদেশি দর্শকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের প্রত্যেককে এপার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। সবাই ওপার বাংলায় ভালো থাকুক, সুন্দর থাকুক পরিবার পরিজন নিয়ে। আপনারা ভালো থাকুন, আপনাদের পাশে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন।’

ওই অনুষ্ঠানে বাংলা ভাষার জন্য যারা শহীদ হয়েছিলেন, তাদের উদ্দেশ্যে নোম্যানসল্যান্ডে অস্থায়ী শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে ফুল দিয়ে দু’দেশের নেতারা শ্রদ্ধা জানান।

অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষ থেকে রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ছাড়াও বনগাঁর এমপি মমতা ঠাকুর, বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক সুরজিৎ বিশ্বাস, বনগাঁর সাবেক বিধায়ক গোপাল শেঠ, বনগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্য, ছয়ঘরিয়া পঞ্চায়েতের প্রধান প্রসেনজিৎ ঘোষ, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ এ কে এম ফারহাদ, জেলা পরিষদের সদস্য পরিতোষ সাহা-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের পক্ষে সেদেশের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় দফতরের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, শেখ আফিল উদ্দিন এমপি, বেনাপোল কাস্টমসের কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরীসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।