টিডিএন বাংলা ডেস্ক : বাংলাদেশ একাদশ জাতীয় সংসদের পুন:নির্বাচনের দাবিতে জাতীয় সংলাপসহ তিন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। কর্মসূচি সমূহ হচ্ছে, জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠান, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে দ্রুত মামলা দায়ের ও নির্বাচনী সহিংস কবলিত এলাকাসমূহ ফ্রন্টের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সফর। আগামী এক সাপ্তাহের মধ্যে সিলেটের বালাগঞ্জে যাবেন নেতারা। তবে কবে কখন জাতীয় সংলাপ হবে তার কোনো দিনক্ষণ বলা হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার রাতে স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক শেষে ফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
কর্মসূচির সিদ্ধান্ত জানিয়ে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, আমরা আজকে ফ্রন্টের বৈঠক করেছি যেখানে ৩০ ডিসেম্বর কী ঘটেছিলো তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি নির্বাচন যে করা হলো, যে নির্বাচন আমরা আশা করেছিলাম, জনগণ যে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তাদের প্রতিনিধি বাঁছাই করতে পারতো, সেটা তো হয় নাই। কোনো একটা জিনিস হয়েছে যে, যেটাকে প্রচার করা হচ্ছে যে, নির্বাচন হয়েছিলো এবং সেটার ফলাফলের ভিত্তিতে এই সরকার যেটা গঠন করা হয়েছে সেটা করা হয়েছে। আমরা কিছু কর্মসূচি নিয়েছি এর মধ্যে একটা জাতীয় সংলাপ হবে।
পরে ফ্রন্টের পক্ষ থেকে একটি লিখিত বিবৃতি মুখপাত্র মির্জা ফখরুল পড়ে শুনান। বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের নিকট আমাদের জোর দাবি হচ্ছে, অনতিবিলম্বে নির্বাচনের কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের সঠিক অনুলিপি প্রদানের ব্যবস্থা করা হোক। জনগণ যেন কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের অনুলিপি পাওয়ার পর তা আদালতে উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রমাণ করতে পারে যে, ৩০ ডিসেম্বর সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হয়নি। এমতাবস্থায় দেশের জনগণ নির্দলীয় সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে পুনরায় একটি অবাধ সুষ্ঠ নিরপেক্ষ নির্বাচনের জোর দাবি করছি।
বিবৃতি বলা হয়, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সরকারি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা ভীতি সন্ত্রস্ত হয়ে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। ফলে জনগণ নিজেদের মতামত প্রকাশের অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার তথা সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ইউএন কনভেনশন এন্ড হিউম্যান রাইটসের মতে শুধু সাংবিধানিক অধিকার নয় বরং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের মানবাধিকারও কেড়ে নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এসব বেআইনি কর্মকান্ড গুরুতর অপরাধ।
বিবৃতিতে বলা হয়, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন দেশের মালিক জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অপব্যবহার করা হয়েছে। এবং সেনা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকাকে নিষ্ক্রিয় করে নির্বাচন কমিশন পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মৌখিক নির্দেশ দিয়ে সরকারি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী বাহিনীকে ব্যালট পেপারে নৌকা ও লাঙ্গল মার্কায় সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখতে সাহায্য করেছে।
ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডে নিজের বাসায় গতকাল বিকেলে সাড়ে ৪টা থেকে দেড় ঘন্টা স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডির আসম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, জগলুল হায়দার আফ্রিক, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, শহিদুল্লাহ কায়সার, গণস্বাস্থ্য সংস্থার ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।