টিডিএন বাংলা ডেস্ক : সিরিয়ার রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের ইতি টানতে যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ দিতে একমত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। প্রায় এক মাস আগে সিরিয়ার বিমানঘাঁটিতে ট্রাম্পের আদেশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর থেকে দেশটির পরিস্থিতি নিয়ে গত মঙ্গলবার এই দুই নেতার প্রথম ফোনালাপ হলো। এ সময় তাঁরা সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছেন। পাশাপাশি কথা বলেছেন উত্তর কোরিয়াসহ বিভিন্ন ইস্যু এবং ভবিষ্যতে সামনাসামনি সাক্ষাতের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে।
গত মাসে সিরিয়ায় বেসামরিক লোকের ওপর রাসায়নিক গ্যাস হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র দেশটির এক বিমানঘাঁটিতে ‘শাস্তিমূলক’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর পর বাগ্‌যুদ্ধে জড়িয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সিরিয়ার মিত্র রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর থেকে মঙ্গলবার প্রথম ফোনালাপের পর হোয়াইট হাউস ও ক্রেমলিন পৃথক বিবৃতি দিয়েছে। উভয় বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে।
গত ৪ এপ্রিল সিরিয়ায় ইদলিব প্রদেশের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত খান শেইখুন শহরে গ্যাস হামলায় ৮০ জনের বেশি লোকের মৃত্যুর পর দেশটির বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্দেশ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে ৫৯টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। তবে ওই গ্যাস হামলার খবরকে সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ‘বানোয়াট’ আখ্যা দিয়েছিলেন। তখন বাশারের প্রধান বিদেশি মদদদাতা-রাশিয়া গ্যাস দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে বিদ্রোহীদের রাসায়নিক অস্ত্রের মজুতে বিমান হামলাকে দায়ী করেছিল।
মঙ্গলবারের ফোনালাপে পুতিন ‘যেকোনো ধরনের রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগের’ নিন্দা এবং ওই ঘটনাটির পূর্ণ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সিরিয়ায় চলমান যুদ্ধের ভোগান্তি দীর্ঘতর হচ্ছে এবং এই যুদ্ধ থামাতে সব পক্ষের এগিয়ে আসা উচিত বলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট পুতিন সম্মত হয়েছেন। তাঁদের মতে, পক্ষগুলোর উচিত সাধ্যমতো সবকিছু করা।
ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, সিরিয়ায় কার্যকর যুদ্ধবিরতির উপায় খুঁজতে উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাপারে এই দুই বিশ্বনেতা একমত হয়েছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এর ‘উদ্দেশ্য হলো, সিরিয়ায় একটি বাস্তব সমাধান প্রক্রিয়া শুরু করার পরিস্থিতি তৈরি করা।’
কিন্তু দুই নেতা সিরীয় বিমানঘাঁটিতে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে আলোচনা করেছেন কি না, তা কোনো বিবৃতিতেই উল্লেখ করা হয়নি। মার্কিন বাহিনী ওই হামলায় ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার দাবি করলেও সিরীয় সরকার তা অস্বীকার করেছে।
হোয়াইট হাউস আরও বলেছে, ট্রাম্প ও পুতিন উত্তর কোরিয়ার ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি সমাধানে সর্বোত্তম পন্থা’ কী হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
নিভৃতকামী কমিউনিস্ট দেশটির পরমাণু ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প গত সপ্তাহে বলেছেন, কোরীয় উপদ্বীপে একটি বড় সংঘাতের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
ক্রেমলিন বলেছে, কোরীয় উপদ্বীপের বিপজ্জনক পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতার বিশদ আলোচনা হয়েছে। পুতিন উত্তেজনার মাত্রা কমানো এবং সংযমের আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া তাঁরা আগামী জুলাইয়ে অনুষ্ঠেয় জি-২০ সম্মেলনের সময় নিজেদের মধ্যে সামনাসামনি সাক্ষাতের বিষয়েও আলোচনা করেছেন। বৈঠকটি হলে তা হবে গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর পুতিনের সঙ্গে তাঁর প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। তবে হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে এ ধরনের কোনো বৈঠকের বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি। (সূত্র-বিবিসি)