টিডিএন বাংলা ডেস্ক: দানবাকৃতির, বরফাচ্ছন্ন গ্রীনল্যান্ডকে কিনে নেওয়া যায় কিনা জানতে নিজের শীর্ষ সহযোগীদের খোঁজখবর নিতে নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত দুজন ব্যক্তি বিষয়টি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপটি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ট্রাম্পের কথা শুনে তার সহযোগীরা চমকে গিয়েছিলেন। কেউ কেউ ভেবেছিলেন তিনি ঠাট্টা করছেন। তবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ট্রাম্প বিষয়টি নিয়ে চাপ প্রয়োগ করছেন। যে দুজন ব্যক্তি বিষয়টি জানিয়েছেন তারা পরিচয় প্রকাশে ইচ্ছুক নন, কারণ হোয়াইট হাউজের এটি গোপন বিষয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরো জানায়, বিষয়টির খোঁজখবর নিতে এখনও ইতস্তত বোধ করছেন ট্রাম্পের সহযোগীরা। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আইনগতভাবে বৈধ কিনা খোদ তা নিয়েই সন্দিহান তারা। ডেনমার্কের অধীনে থাকলেও গ্রীনল্যান্ডের নিজস্ব সরকার আর জনগন আছে। তাই এই ধরণের প্রস্তাব স্বাধীকারের লঙ্ঘন বলে বিবেচিত হতে পারে।

সিআইএর ফ্যাক্টবুক বলছে, গ্রীনল্যান্ড ২২ লাখ বর্গকিলোমিটারের একটি দ্বীপ, যার ১৭ লাখ বর্গকিলোমিটারই বরফাচ্ছদিত। তবে দ্বীপটি প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ। এর মধ্যে আছে কয়লা ও বিপুল ইউরেনিয়াম। তবে দ্বীপটির মাত্র ০.৬ শতাংশ জমি ব্যবহার হয়। এর লোকসংখ্যা মাত্র ১৮ হাজার। আকারে বিশাল হলেও জনসংখ্যার ভিত্তিতে এটি বিশে^র অন্যতম ছোট দেশ। ডেনমার্ক রাজতন্ত্রের অংশ হলেও গ্রীনল্যান্ড সায়ত্বশাষিত। ২ সপ্তাহের মধ্যে ডেনমার্ক সফরের কথা রয়েছে ট্রাম্পের।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তর সাগর আর আটলান্টিকের সংযোগস্থলে থাকা গ্রীনল্যান্ডের ব্যপক সামরিক গুরুত্ব রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। এ কারণে এই এলাকাটি তাদের প্রয়োজন। কারণ আলাস্কার চেয়েও ভালোভাবে গ্রীনল্যান্ড থেকে রাশিয়ার উপর নজরদারী সম্ভব। এ কারণে এই এলাকাটির উপর মার্কিন আগ্রহ থাকতেই পারে। এর আগে ১৮৬৭ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে ৭২ লাখ ডলারে আলাস্কা কিনে নিয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্র।