টিডিএন বাংলা ডেস্ক : ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর কাছে সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা অস্ত্র চলে যাচ্ছে- প্রকাশিত এমন খবরে বিচলিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান এলিয়ট এঙ্গেল। গত সোমবার সিএনএনের এক খবরে বলা হয়, সৌদি আরব ও আরব সামরিক জোটে তার প্রধান অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি অস্ত্র ইয়েমেনে আলকায়েদার সাথে সংশ্লিষ্ট যোদ্ধা ও অন্যান্য গোষ্ঠীর কাছে হস্তান্তর করছে। এসব অস্ত্রের কিছু অংশ শেষ পর্যন্ত ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহীদের হাতে গিয়ে পড়ছে এবং তাতে ইরানের কাছে স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁস হয়ে যাচ্ছে।

এসব অভিযোগের পর মার্কিন কংগ্রেস সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের কাছে অস্ত্র বিক্রিতে আরো বিধিনিষেধ আরোপের কথা বিবেচনা করবে কি না বুধবার কমিটির এক শুনানিতে এমন প্রশ্ন রেখেছেন এঙ্গেল। বুধবার রাতে ওই কমিটির ভোটাভুটিতে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে ইরান-সমর্থিত হাউছি বিদ্রোহীদের সাথে যুদ্ধরত সৌদি আরব ও অন্যান্য দেশকে সমর্থন দেয়ার বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে বিরত রাখার একটি প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন আসে। শুনানিতে ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি এঙ্গেল বলেছেন, ‘এই খবরগুলো অত্যন্ত বিচলিত হওয়ার মতো। ট্রাম্প প্রশাসনের অবশ্যই আরো তদন্ত করতে হবে এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কাজ করতে হবে।’

সৌদি জোটের কাছে মারণাস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে কংগ্রেস আরো বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা করবে কি না, এ প্রশ্নও রাখেন তিনি। বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে বড় ধরনের অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে পুনর্বিবেচনা ও তা ‘স্থগিত’ রাখার অধিকারও রাখেন তিনি। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, এসব অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে তারা। এ ধরনের সব খবর গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে মন্তব্য করে দফতরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘এসব খবরের বিষয়ে আমরা অবগত আছি এবং আরো তথ্য খুঁজছি।’ শুনানিতে সৌদি আরবের বিষয়ে সমালোচনাপূর্ণ মন্তব্য করেন এঙ্গেল ও কমিটির অন্য সদস্যরা।

তবে সৌদি আরবের বিষয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের হতাশা প্রকাশের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ইয়েমেনে সৌদি জোটের হামলায় একের পর এক বেসামরিক নিহতের ঘটনা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকা- ইত্যাদি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা আগে থেকেই সৌদি আরবের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন।

গত বছর আইনপ্রণেতারা রিয়াদের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের লেনদেনে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পক্ষে প্রস্তাবসহ সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সাথে অস্ত্র বিক্রিতে বিধিনিষেধ, সামরিক সহযোগিতা বন্ধসহ মানবাধিকার নিয়ে রিয়াদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ বিভিন্ন প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। তবে এসব বিলের কোনোটিই শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হয়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সৌদি আরবকে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অংশীদার ও দেশটির কাছে অস্ত্র বিক্রিকে মার্কিন চাকরির গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে উল্লেখ করে এসব বিলের বেশির ভাগেরই বিরোধিতা করেছে।