টিডিএন বাংলা ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে এখন বলতে গেলে ভুতুড়ে অবস্থা বিরাজ করছে। আর করবেই বা না কেন, দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘতম অচলাবস্থায় অনেক হোটেলই ফাঁকা পড়ে আছে। পর্যটন ব্যবসায়ীরাও অন্ধকার দেখছেন। রেস্তোরাঁ খোলা রাখতে ভাবা হচ্ছে ঋণের কথা। পর্যটন কোম্পানিগুলোতেও ফোন বাজছে না আগের মতো। যদিও জানুয়ারির এ সময়ে সেখানে পর্যটকদের খুব একটা আনাগোনা থাকে না। মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থায় গত চার সপ্তাহ ধরে আংশিক অচলাবস্থা চলছে। এতে ফাঁকা হয়ে গেছে দেশটির রাজধানী। পর্যটক কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদেরও মাথায় হাত। দেশটির ইতিহাসের অনেক ঘটনা সাক্ষী হয়ে আছে ওয়াশিংটন। আর এসব দেখতে বছরে দুই কোটিরও বেশি পর্যটক আসেন এখানে। তারা ওয়াশিংটনের স্মিথসনিয়ান জাদুঘর, স্মৃতিসৌধ, ক্যাপিটল হিল ও হোয়াইট হাউস দেখতে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসেন। কিন্তু এবার তাতে বাঁধ সেধেছে দীর্ঘ অচলাবস্থা। বেকার হয়ে পড়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। বন্ধ হয়ে গেছে বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান। আর পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলোও পড়ছে হুমকিতে। অপর এক খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে চলমান সরকার অচলাবস্থায় (শাটডাউন) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ক্ষুব্ধ ও অতিষ্ঠ মার্কিন শ্বেতাঙ্গ নাগরিকরা। বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গ শ্রমিক শ্রেণী ও তরুণরা। গত ২৫ দিন ধরে কোনো বেতন-ভাতা ছাড়াই কাজ করতে হচ্ছে তাদের। এটা এখন ক্রমেই প্রভাব ফেলছে তাদের দৈনন্দিন জীবন-যাপনের ওপর। পেটে টান পড়ায় ট্রাম্পের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন তারা। বলছেন, মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের নামে ট্রাম্প যা করছেন তা মোটেই ঠিক নয়। অথচ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের সবচেয়ে ‘সমর্থন ঘাঁটি’ ছিল এই শ্বেতাঙ্গ মার্কিনিরাই। স¤প্রতি সিএনএনের চালানো এক জনমত জরিপে ট্রাম্পের প্রতি শ্বেতাঙ্গ মার্কিনিদের এই ক্ষুব্ধ মনোভাব উঠে এসেছে। চলমান প্রশাসনিক অচলাবস্থায় কোনো সমাধানের ইঙ্গিত মিলছে না। সর্বশেষ বৈঠকেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা অনড় অবস্থানে থাকায় আলোচনা ভেস্তে গেছে। শুধু তাই নয়, অচলাবস্থা শুরু করা প্রেসিডেন্ট বৈঠক শেষে নিজের চিরাচরিত পন্থায় টুইটারে ঝড় তুলেছেন। এমনকি প্রয়োজনে আরও দীর্ঘ অচলাবস্থার মধ্য দিয়ে যাবেন। তবু নতি স্বীকার করবেন না বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই গোয়ার মনোভাবের কারণে এই মুহূর্তে তার জনপ্রিয়তা এ যাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে তলানিতে ঠেকেছে। সিএনএন জরিপ মতে, কলেজ ডিগ্রিহীন শ্বেতাঙ্গ শ্রমিকদের মধ্যে ৪৭ শতাংশই ট্রাম্পের প্রতি ক্ষুব্ধ। আর মাত্র ৪৫ ভাগের এখনও তার প্রতি সমর্থন রয়েছে। শ্বেতাঙ্গদের সমর্থকদের বেলায় ২০১৮ সালের ফেব্র“য়ারি পর এই প্রথমবারের জন্য ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন সর্বনিম্নে অবস্থান করছে। গত বছরের ডিসেম্বরের এক জরিপেও তার ওপর ৫৪ শতাংশ শ্বেতাঙ্গের সমর্থন ছিল। অন্যদিকে ৩৯ শতাংশ ছিল ক্ষুব্ধ। ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প যেসব ভোটারের ওপর সবচেয়ে নির্ভর করেছিলেন এবং এখনও নির্ভর করছেন, সেই গোষ্ঠীটি হচ্ছে এই শ্বেতাঙ্গ শ্রমিক ও কৃষক শ্রেণী, যাদের কোনো কলেজ ডিগ্রি নেই। এদেরকে প্রায়ই ট্রাম্পের ‘সমর্থন ঘাঁটি’ বলা হয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে ইভাঞ্জেলিক্যাল খ্রিস্টান, প্রবীণ প্রজন্ম এবং শ্বেতাঙ্গদের অন্য আরও কিছু গোষ্ঠী। ট্রাম্প এখনও এদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু সময় যত যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি তাদের মোহ ততই ভাঙছে। সিএনএন, রয়টার্স।