টিডিএন বাংলা ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে গণভোটের জন্য প্রস্তুত সরকার। অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দারা পাকিস্তানের সঙ্গে থাকতে চান , না স্বাধীনভাবে বসবাস করতে চান , সেই সিদ্ধান্ত নিতে পাক সরকার গণভোটের জন্য প্রস্তুত রয়েছে । ডয়চে ওয়েলে ’ – কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ইমরানের কথায়, সবচেয়ে ভাল উপায় হল গণভোট। তারা কি চাইছেন , সেই সিদ্ধান্ত তো নেওয়ার অধিকার রয়েছে কাশ্মীরিদের।

ইমরান খান বলেন, অধিকৃত কাশ্মীরের অধিবাসীরা পাকিস্তানের সঙ্গে থাকতে চান , নাকি স্বাধীনতা চান ? তা স্পষ্ট করতেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরিদের গণভোটের অধিকার দিতে উদ্যোগী ইসলামাবাদ পাক প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘ আমরা সবসময় এই বিষয়টির পক্ষে রয়েছি। এর আগেও অবশ্য এই দাবিতে সরব হয়েছিল ইসলামাবাদ। নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারের কাশ্মীরিদের মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগ খণ্ডন করে দিয়ে ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী।

তাঁর কথায়, ‘ বিশ্বের যে কোনও প্রান্তের যে কেউ পাকিস্তানের কাশ্মীরে গিয়ে সেখানকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পারেন। তবে, ভারতের কাশ্মীরে তাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। যারা যাবেন তারাই পার্থক্যটা বুঝতে পারবেন। কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপুঞ্জে মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগ তুলেছে ইমরানের দেশ। সেই দাবি গাঢ় করতেই পাক প্রধানমন্ত্রীর মুখে ফের কাশ্মীরে গণভোটের প্রসঙ্গ বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে ভারত অভিযোগ করে আসছে যে ভারতকে নিশানা করে সন্ত্রাসবাদীদের ক্রমাগত মদত দিয়ে চলেছে পাকিস্তান। কিন্তু , ভারতের সাফ কথা, সন্ত্রাসে মদত বন্ধ না করলে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় বসবে না নয়াদিল্লি। মোদি সরকারের এই অনড় অবস্থান নিয়ে ভারতকে নিশানা করেছেন ইমরান।

তাঁর দাবি, সীমান্ত সমস্যা মেটাতে ভারতের সঙ্গে আলোচনার জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো সত্ত্বেও তা সফল হয়নি। আরএসএস মতাদর্শের কারণেই তা সম্ভব হয়নি। ভারতের কাশ্মীরে কি হচ্ছে তা নিয়ে তিনিই প্রথম বিশ্বকে সতর্ক করেছিলেন বলে জানান পাক প্রধানমন্ত্রী। নরেন্দ্র মোদি সরকারের সমালোচনা করে ইমরান খান বলেন, ‘ ভারত জাতিগত চরমপন্থীদের দ্বারা পরিচালিত। এরা হল হিন্দুত্ববাদী। আরএসএস – এর জন্ম ১৯২৫ সালে। এই সংগঠন তৈরির পিছনে অনুপ্রেরনা জার্মানির নাজি বাহিনীর। আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতারা নাজির মতো জাতিগত আধিপত্যবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। জার্মানির নাজি বা বাহিনী যেমন সংখ্যালঘুদের ঘৃণা করত , তেমন আরএসএস – এর মতাদর্শ মুসলমান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের আক্রমণ করা।’

ইমরানের কথায় — “ আমি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরই ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু নরেন্দ্র মোদির সরকার আমার আহ্বানে সাড়া দেয়নি। এরপরই তাঁর সংযোজন, ক্রমশ বুঝতে পেরেছি আরএসএসের মতাদর্শের কারণেই সেই আলোচনা সম্ভব নয়।”