টিডিএন বাংলা ডেস্ক : ভারী বোমা বর্ষণের আওয়াজ পেয়েছিলেন পাকিস্তানের বালাকোটের বাসিন্দারা। কেউ বলছেন, পুরো আকাশটাই যেন ভেঙে পড়ল মাটিতে! অথবা ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল গোটা পাকিস্তান। কেউ আবার বলেছেন, সে এক বিকট আওয়াজ আর তীব্র আলোর ঝলকানি। ভয়ে আর ঘুম আসছিল না।
মঙ্গলবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে পাকিস্তানে বিমানহানা চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। মাত্র ২১ মিনিটের অভিযানে বালাকোটের পাশাপাশি পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভূখন্ডের মুজফ্ফরাবাদ, চাকোটিতেও বোমাবর্ষণে ধ্বংস করা হয়েছে পাক-মদতপুষ্ট বেশ কয়েকটি জঙ্গিঘাঁটি। যদিও ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের সচিব বিজয় গোখলে এদিন স্পষ্ট করেননি, কোন বালাকোটে বিমানহানা চালিয়েছে বায়ুসেনা। পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভূখন্ডে বালাকোট নামে একটি স্থান রয়েছে। আবার পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ডে খাইবারপাখতুনওয়া প্রদেশে আরও একটি বালাকোট রয়েছে। খবর বর্তমান পত্রিকার।

বালাকোটের জাবা টপের বাসিন্দা মুহম্মদ আদিল বিবিসিকে বলেছেন, “ভোর তিনটার দিকে হঠাৎই প্রচণ্ড আওয়াজ হতে থাকে। মনে হয় যেন ভূমিকম্প হচ্ছে। আর ঘুম আসে নি। কিছুক্ষণ পরে জানতে পারি বোমা পড়েছে।” মি. আদিল আরও জানিয়েছেন যে একসঙ্গে পাঁচটা বিস্ফোরণ হয়েছে। কিছুক্ষণ পরে অবশ্য আর আওয়াজ পাওয়া যায় নি।

“সকাল হওয়ার পরে আমরা ওই জায়গাটায় গিয়েছিলাম, যেখানে বিস্ফোরণ হয়েছে বলে মনে হচ্ছিল। বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে সেখানে। কয়েকটা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একজন ব্যক্তিকে জখম অবস্থায় দেখতে পেয়েছি,” জানাচ্ছিলেন মি. আদিল।

বালাকোটেরই আরেক বাসিন্দা ওয়াজিদ শাহও জানান, তিনিও একসঙ্গে বেশ কয়েকটা বিস্ফোরণের আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলেন। “আওয়াজ শুনে মনে হচ্ছিল যেন অনেকগুলো রাইফেল থেকে একসঙ্গে ফায়ার করা হচ্ছে। কিছুক্ষণ পরে আর শব্দ পাই নি,” বলেন তিনি।

বর্তমান পত্রিকা বিবিসি উর্দুর বরাত দিয়ে লিখেছে,বালাকোটের পার্শ্ববর্তী গ্রাম মানসেরার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভোর ৩ টে থেকে ৪টে’র মধ্যে ভারী বোমা বর্ষণের বিকট শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন তিনি। প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল চারিদিকে। সকাল হতে না হতেই গ্রামবাসীরা ভিড় জমিয়েছিলেন ঘটনাস্থলে। স্থানীয় পুলিসকে উদ্ধৃত করে বিবিসি জানিয়েছে, পাকিস্তানের পুলিস বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিল। এলকায় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।