টিডিএন বাংলা ডেস্ক: বার্সেলোনায় রাজনৈতিক নেতাদের গ্ৰেফতারের প্রতিবাদে পুরোদেশজুড়ে ব‍্যাপক গণবিক্ষোভ দেখায় দেশটির জনগন। বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে বিক্ষোভকারীরা বুধবার রাতে শহরটির বিভিন্ন সড়কে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা ছোড়ে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

২০১৭ সালে কাতালুনিয়ার স্বাধীনতা লাভের আন্দোলন ও গণভোট পুরো স্পেনকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। সোমবার দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ঐ আন্দোলন, গণভোট এবং তার পরবর্তী স্বাধীনতা ঘোষণা সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে জড়িত নয় রাজনীতিবিদ ও নেতাকে সর্বোচ্চ ১৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দিলে বিক্ষুব্ধরা ফের রাস্তায় নামে। বুধবার দিনভর সুপ্রিম কোর্টের ঐ রায়ের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখা গেলেও রাতে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

বুধবার দিনের বেলায় বিক্ষোভকারীরা বার্সেলোনার বেশকিছু সড়ক ও রেললাইন বন্ধ করে দেয়। আঞ্চলিক সরকারপ্রধান তোরা নিজেও ‘স্বাধীনতাপন্থিদের ঘাঁটি’ খ্যাত জিরোনা শহরের একটি বিক্ষোভে অংশ নেন। আদালতের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সঠিক উপায়ে বিক্ষোভের উদাহরণ দেখাতে ঐ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন বলে পরে জানান তিনি। সূর্য ডোবার পরপরই কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী, যাদের অধিকাংশই তরুণ, বার্সেলোনার কেন্দ্রস্থলের একটি প্রধান সড়কে জড়ো হয়ে স্বাধীন কাতালানের পতাকা উড়াতে থাকে; তারা শূন্যে টয়লেট পেপারও ছুড়ে মারে।

বিক্ষোভকারীরা কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে মলোটোভ ককটেল, পেট্রোল বোমা ও এসিড ছুড়েছে বলে দাবি পুলিশের। কোনো কোনো স্থানে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশকে লাঠিচার্জ ও ফোমের প্রজেক্টাইল ছুড়তে দেখা গেছে বলেও সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। জরুরি বিভাগ পরে বার্সেলোনা ও বিভিন্ন শহরে বুধবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ৫২ জনকে প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

স্পেনের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সরকার এ পরিস্থিতিতে দ্রুত ও যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। মাদ্রিদে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সোশ্যালিস্ট পার্টির এ শীর্ষ নেতা বলেন, ‘সমগ্র পরিস্থিতিই যে সরকারের বিবেচনায় আছে, কাতালান জনগণ এবং স্পেনের সমাজের সবারই তা জানা উচিত।’

নভেম্বরে হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনে ফের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকা সানচেজের ওপর কাতালুনিয়া নিয়ে শক্ত অবস্থান এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়া বিষয়ে ডানপন্থী দলগুলোর ব্যাপক চাপ আছে। বলেছেন উদারপন্থী সিউদাদানোসের নেতা আলবার্ট রিভেইরা বলেন, ‘সানচেজকে অবশ্যই কাতালুনিয়ায় সরাসরি কেন্দ্রের শাসন চালু করতে হবে।’