টিডিএন বাংলা ডেস্ক: করোনা ভাইরাস বা ‘কভিড ১৯’  নিয়ে সাম্প্রতিক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যকে ঘিরে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা| সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘কভিড ১৯’ কে কখনো ‘এশিয়ান ভাইরাস’ বা কখনো ‘চাইনিজ ভাইরাস’ রূপে সম্বোধন করেছেন। মার্কিন স্বরাষ্ট্র সচিবও এটাকে ‘উহান ভাইরাস’ বলে মন্তব্য করেন| বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু এই ধরনের মন্তব্য করে কোন প্রকার জাতিবিদ্বেষ বৈষম্য বা ঘৃণা ছড়ানো থেকে দূরে থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন। কেননা, এই ভয়ংকর পরিস্থিতিতে যদি কোন প্রকার জাতি বিদ্বেষ সৃষ্টি হয় তাহলে তা আরো ভয়ঙ্কর আকার নিতে পারে। তাই বিশ্ব সংস্থা স্বাস্থ্য সংস্থা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কে সতর্ক হয়ে কথাবার্তা বলার আহ্বান জানিয়েছেন| যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মন্তব্য সম্পর্কে বলেছেন কোন বিদ্বেষের কারণে তিনি এ ধরনের মন্তব্য করেননি| তিনি বলেছেন, যেহেতু এশিয়ায় বা চিনে এই ভাইরাসের উৎপত্তি হয়েছে তাই তিনি এ ধরনের মন্তব্য করেছেন তিনি যে কোন বৈষম্য করেন না তার প্রমাণ তার দেশের কার্যকলাপ|

ট্রাম্প বলেন, তার দেশ এশিয়া, চীন সহ বিশ্বের সকল দেশের নাগরিকদের পরিষেবা দিতে বদ্ধপরিকর এবং তার দেশের ডাক্তার হসপিটাল এবং স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলো জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে| বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মনে করে যে করোনা ভাইরাস কে অন্য কোন নামে চিহ্নিত না করে একে ‘কভিড ১৯’  নামে পরিচিত করা উচিত| কেননা কোনভাবেই যদি এটি এশিয়ার মানুষদের মধ্যে বা চীনের মানুষদের মধ্যে কোন হীনমন্যতা তৈরি করে তাহলে তারা এই রোগে আক্রান্ত হয়েও রোগকে গোপন করার চেষ্টা করবেন| যদি অবস্থা তৈরি হয় তাহলে আরো ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করবে ‘কভিড ১৯’ ভাইরাস| তাহলে বিশ্বকে তার মূল্য দিতে হতে পারে। তাই তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে কোনভাবেই কোন ধরনের বৈষম্য বা ঘৃণা যেন আমাদের মনের মধ্যে না থাকে|

আমাদের প্রত্যেককে এই মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। ‘কভিড ১৯’ চাইনিজ নয় আর এশিয়ান ও নয় এটি শুধু একটি ভাইরাস এর নাম ‘কভিড ১৯’ এবং এই নামেই একে চিহ্নিত করতে হবে| যারা আক্রান্ত হবে তাদেরকে ‘কভিড ১৯’   আক্রান্ত বলতে হবে আর যাদেরকে চিকিৎসা করা হচ্ছে তাদেরকেও এই নামেই চিহ্নিত করতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোগ মোকাবেলার জন্য দেশজুড়ে তথা বিশ্বজুড়ে সর্তকতা অবলম্বন করা এবং পূর্বঘোষিত বিধি কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে। সূত্র থেকে জানা যায় এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৬৮ টা দেশের ১৬৫৫৯ জন মৃত এবং ৩৮১৫৯৮ জন আক্রান্ত বলে জানানো হয়েছে।