টিডিএন বাংলা ডেস্ক: জাকির নায়েক কে ভারতে ফেরত পাঠানো হবেনা, এমনটাই জানালেন মালয়েশিয়া প্রধানমন্ত্রী ড.মাহাথির মোহাম্মদ। সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় বেশ বিপাকে রয়েছেন ভারতীয় ধর্মপ্রচারক ও বক্তা ড. জাকির নায়েক। সংখ্যালঘুদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন জাকির নায়েক। ইতোমধ্যে দেশটির সব প্রদেশে তার ধর্মীয় বক্তব্য প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেছেন যে, তার বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে ১১৫টি অভিযোগ করা হয়েছে। জাকির নায়েক প্রায় তিন বছর ধরে মালয়েশিয়ায় বসবাস করছেন। সেখানে তাকে স্থায়ী নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিজের বক্তব্যের কারণে তাকে মালয়েশিয়া থেকে ভারতে ফেরত পাঠানোর দাবি উঠেছে। কিন্তু তাকে ভারতে ফেরত পাঠাতে রাজি নয় মালয়েশিয়া। এমন সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ। এমন সিদ্ধান্তের জন্য মালয়েশিয়ান ইসলামিক রাজনৈতিক দলের সভাপতি দাতুক সেরি আবদুল হাদি আভাং প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেছেন। হাদি জাকির নায়েকের বিষয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনুভূতির ভিত্তিতে নয়, তথ্যের ভিত্তিতে বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে হাদি জাকির নায়েকের বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে পুত্রজায়াতে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদকে জাকির নায়েককে তার দেশে ফেরত পাঠানো হবে কিনা সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, জাকির নায়েক মালয়েশিয়ায় থাকবে। এখনও পর্যন্ত আমি আমার অবস্থান বদলাইনি।

এবিষয়ে জাকির নায়েকের বলেন, তিনি প্রকৃতপক্ষে মোটেও বর্ণবাদী নন। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, তার সমালোচকরা তার বক্তব্যকে ভুলভাবে নিয়েছেন এবং তার বক্তব্যে মনগড়া কথা যোগ করা হয়েছে। তার বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যদিও আমি আমার বক্তব্য পরিষ্কার করেছি। কিন্তু তবু আমার কথায় যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে তার জন্য আমি ক্ষমা চাইছি। এখানে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আমি কারও অনুভূতিতে আঘাত করতে চাই না। এ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে মালয়েশিয়ার ফেডারেল পুলিশ। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার পর কুয়ালামপুরে ফেডারেল পুলিশ সদর দফতরে তাকে তৃতীয়বারের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।