টিডিএন বাংলা ডেস্ক: পা ভেঙেছে বাবার। মা ক্ষীণ দৃষ্টি । তিন চাকার ঠেলা রিকশা চালিয়ে বারাণসী থেকে ৬০০ কিলােমিটার পথ পেরিয়ে বিহারের আড়ারিয়ায় নিজের গ্রামে পৌঁছালাে ১১ বছরের কিশাের তাবারক।  ‘আত্মনির্ভর’ ভারতের দারণ বিজ্ঞাপন। এবং কী আশ্চর্য যােগসূত্র ! ঘটনাটি ঘটেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদির নির্বাচনক্ষেত্র উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে। কিশাের তবারকের বাবা ইস্রাফিল ( ৫৫ ) বিগত ২০ বছর ধরে বারাণসীর একটি মার্বেলের দোকানে কাজ করেন। লকডাউনের কয়েকদিন আগে পাথর পড়ে ভাঙে পা। তাবারককে সঙ্গে নিয়ে সুস্থ স্বামীর কাছে পৌঁছান ইস্রাফিলের স্ত্রী। কিন্তু ফেরার আগেই অকস্মাৎ ঘােষণা হয়ে যায় লকডাউন। 

লকডাউন শুরু হাতেই দোকান বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় ইস্রাফিলের রােজগার। একসময় ফুরিয়ে আসে হাতের পয়সা, খাবার। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনক্ষেত্রেও আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা ছিলাে না বলে অভিযােগ ইস্রাফিলের। তার স্ত্রী বলেন, আমরা নিরুপায় ছিলাম। এখানে বসে না খেয়ে মরার চাইতে গ্রামে গিয়ে মরা ভালাে। ওখানে আমার মেয়ে দুটো রয়েছে। মরলে অন্তত ওদের সামনে মরতে পারবো। আসার সময় পথে পথে স্থানীয় মানুষ আমাদের খাবার ব্যবস্থা করেছেন বলে এখনাে বেঁচে আছি। নিঃসন্দেহে হৃদয়বিদারক। 

এর ক’দিন আগে হরিয়ানার গুরুগ্রাম থেকে বিহারের দ্বারভাঙায় অসুস্থ বাবাকে বাই – সাইকেলে চাপিয়ে বাড়ি ফিরেছিলাে ১৫ বছরের মেয়ে জ্যোতি কুমারী। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিলাে দেশের জন্য লজ্জাজনক ওই সংবাদ। এরপর এবার উঠে এলাে এই ঘটনা। ভয় পাওনি ? কেউ প্রশ্ন করেছিলাে তাবারককে। টানা নয়দিন ঠেলা রিকশা চালানাে নাবালকের জবাব, রাস্তায় তাে হাজার হাজার লােক হাঁটছিলাে। স্কুলে পড়লে ক্লাস ফাইভে থাকার বয়স তাবারকের। যে বয়সে স্নেহের পরশে বেড়ে উঠার কথা, শৈশবের সেই শৈশবকে নিষ্ঠুর রাষ্ট্র ব্যবস্থা ঠেলে দিয়েছে অনাহারের মুখােমুখি। অন্ধকারচ্ছন্ন ভবিষ্যতের বেঁচে থাকার এই অগ্নি পরীক্ষাকে যদি প্রধানমন্ত্রী কোনদিন ‘আত্মনির্ভরতা’র প্রথম সােপান বলে উল্লেখ করেন , তাবারক বা জ্যোতি কুমারীরা নিশ্চয় আকাশ থেকে পড়বে না।